রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় সুইমিংপুলে অনুশীলনের সময় পানিতে ডুবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মা হোসাইনের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। অব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগে রবিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে, যা চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন— “আমার বোন মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে”, “কে মেরেছে, কে মেরেছে— প্রশাসন প্রশাসন”। তাদের দাবি, সায়মার মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি প্রশাসনিক অবহেলার ফল।
রাকসুর জিএস সালাহ্উদ্দিন আম্মার বলেন, ‘সায়মা দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে তার ফিটনেস পরীক্ষা করা হয়নি— এটি মারাত্মক গাফিলতি।’
রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসনের উদাসীনতা বারবার প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। এবার দায় এড়ানো যাবে না।’
আরও পড়ুন : গভীর নিম্নচাপ এখন ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’, সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত
রাত পৌনে ১১টার দিকে উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, ‘ঘটনার সময় উপস্থিত শিক্ষক, কর্মচারী ও মেডিকেল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে।’
পরে উপাচার্যের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
এর আগে বিকেলে সাঁতারের অনুশীলনে নামার পর সায়মা পানিতে ডুবে যান। তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খানকে আহ্বায়ক করে তিন শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক ও ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাবির সুইমিংপুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা ডেস্ক 









