বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ আগামীকাল মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে এটি সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানবে না, এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।
সংস্থাটির সোমবারের (২৭ অক্টোবর) ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূল থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে এবং এর গতিপথ ভারতের দিকে। তাই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানবে এমন গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে এর প্রভাবে একটি বৃষ্টি বলয় ‘আঁখি’ গঠিত হতে পারে, যা দেশের কিছু অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।
আরও পড়ুন : একদিন পর উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক
বিডব্লিউওটি জানায়, ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আঘাতের পর দুর্বল হয়ে দিক পরিবর্তন করে বাংলাদেশের রংপুর বা রাজশাহী অঞ্চলের কাছাকাছি লঘুচাপ আকারে প্রবেশ করতে পারে। তখন দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তবে এটি কোনো বর্ষাকালীন বলয় নয়, তাই সারা দেশে ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা নেই।
পোস্টে আরও বলা হয়, “ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’র গতিপথের ওপর নির্ভর করছে ‘আঁখি’ বৃষ্টি বলয়ের তীব্রতা ও সক্রিয়তা। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় কৃষিকাজে বৃষ্টির প্রভাব ইতিবাচক বা নেতিবাচক—দুটোই হতে পারে।”
বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১৩৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত আশ্রয়ে যেতে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা ডেস্ক 









