বাংলাদেশে বছরের প্রায় পুরো সময় জুড়েই সূর্যের তাপ যেন চেনা এক সঙ্গী। গরমে ভিজে যাওয়া শরীর, রোদে পোড়া ত্বক—এসব যেন শহর-গ্রামের মানুষের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, এই ‘অতিরিক্ত রোদে থাকা’ আমাদের শরীরের ভেতরে কী ভয়াবহ ক্ষতি করছে?
সাধারণত সূর্যের আলো শরীরের জন্য উপকারী—এটি ভিটামিন ‘ডি’ উৎপাদনে সাহায্য করে, যা হাড় মজবুত রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কিন্তু একই সূর্য যখন তীব্র হয়, তখন তার অতিবেগুনি রশ্মি (UV Rays) ত্বক, চোখ এমনকি শরীরের কোষের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
সাধারণত দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের UV-A এবং UV-B রশ্মি সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। এই সময়ে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে ত্বকের গভীরে ক্ষতি হয়। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, মেলানিনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং সময়ের আগেই বলিরেখা পড়ে।
আরও পড়ুন : প্রেমের প্রস্তাবে শ্রদ্ধা কাপুরের মজার প্রতিক্রিয়া: ‘জানেন তো, আমার বাবা কে?’
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই রশ্মি ত্বক ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়ায়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে UV রশ্মিজনিত ত্বকজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর প্রায় ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে।
রোদে বেশি সময় থাকা শুধু ত্বক নয়, পুরো শরীরকেই প্রভাবিত করে। তীব্র তাপে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়ে যায়, ফলে ডিহাইড্রেশন হয়। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, এমনকি হিটস্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।
বাংলাদেশে প্রতি গ্রীষ্মেই হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ে। ২০২৪ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুধু মে মাসেই ৪০০-র বেশি মানুষ তীব্র তাপমাত্রাজনিত অসুস্থতায় ভর্তি হয়েছিলেন।
অতিরিক্ত সূর্যালোকে চোখের লেন্স ও রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। UV রশ্মি ক্যাটারাক্ট বা ছানি পড়ার অন্যতম কারণ। তাই যারা নিয়মিত বাইরে কাজ করেন—যেমন নির্মাণ শ্রমিক, ডেলিভারি কর্মী বা ট্রাফিক পুলিশ—তাদের জন্য সানগ্লাস ব্যবহার করা অপরিহার্য।
রোদ থেকে বাঁচতে করণীয়
- সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন: SPF ৩০ বা তার বেশি মানের সানস্ক্রিন প্রতিদিন ব্যবহার করুন, এমনকি মেঘলা দিনেও।
- ছাতা ও টুপি ব্যবহার করুন: বাইরে গেলে ছাতা, ক্যাপ বা হ্যাট ব্যবহার করুন।
- সাদা বা হালকা রঙের পোশাক পরুন: এটি সূর্যের রশ্মি প্রতিফলিত করে, ফলে শরীর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন: রোদে কাজ করলে ঘন ঘন পানি বা ওরস্যালাইন পান করুন।
- দুপুরের সময় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন: সম্ভব হলে সকাল বা বিকেলের দিকে কাজ সেরে নিন।=
ঢাকা ডেস্ক 















