নারীদের মধ্যে অন্যতম একটা মারাত্মক রোগ বর্তমানে স্তন ক্যানসার। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সাধারণত ব্যথাহীন ও উপসর্গহীন থাকে, ফলে অনেক সময় রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয়।
এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং নিয়মিত নিজের স্তন পরীক্ষা করা যাকে বলা হয় ব্রেস্ট সেলফ এক্সামিনেশন (BSE) বা সেলফ স্ক্রিনিং।
প্রতি মাসে একবার এই পরীক্ষা করা উচিত। মাসিক চলাকালীন সময়ে হরমোনের প্রভাবে স্তন ফুলে যেতে পারে, তাই পরীক্ষা করার সবচেয়ে ভালো সময় হলো পিরিয়ড শেষ হওয়ার তিন থেকে পাঁচ দিন পর।
কীভাবে নিজে নিজে পরীক্ষা করবেন
স্পর্শ করে পরীক্ষা করুন
এক হাত মাথার ওপরে তুলে অপর হাত দিয়ে বিপরীত দিকের স্তনটি আলতোভাবে চাপুন। আঙুলের ডগা দিয়ে বৃত্তাকারে পুরো স্তনটি ঘুরে ঘুরে স্পর্শ করুন—উপরে, নিচে, পাশ থেকে পাশ পর্যন্ত। একইভাবে অন্য স্তনটিও পরীক্ষা করুন।খেয়াল করুন, কোনো শক্ত গাঁট বা ফোলা অংশ অনুভব হচ্ছে কি না।
নিপল পরীক্ষা করুন
হালকা চাপে কোনো রস, রক্ত বা তরল বের হচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন।
আয়নার সামনে পর্যবেক্ষণ করুন
দুই হাত পাশে রেখে, তারপর মাথার ওপরে তুলে আয়নায় স্তনের আকার, রঙ, ত্বকের ভাঁজ বা দাগে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা দেখুন। নিপল বা চারপাশে কোনো ফোলা বা ভেতরে ঢোকা অংশ আছে কি না লক্ষ্য করুন।
শুয়ে পরীক্ষা করুন
শোওয়ার সময় এক পাশের কাঁধের নিচে বালিশ রাখুন। বিপরীত হাত দিয়ে স্তনটি বৃত্তাকারে স্পর্শ করুন এবং কোনো অস্বাভাবিকতা বা শক্ত গাঁট আছে কিনা দেখুন।
যে লক্ষণগুলো দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন-
. স্তনে শক্ত গাঁট বা ফোলা অংশ
. স্তনের ত্বকে ভাঁজ বা দাগ
. স্তনের আকৃতি বা রঙে পরিবর্তন
. নিপল থেকে অস্বাভাবিক তরল নিঃসরণ
নিয়মিত পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব।
ঢাকা ডেস্ক 















