হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন লাগার ২১ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া উড়ছে। রোববার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার পরও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পানি ছিটিয়ে আগুনের পুনঃসঞ্চার ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, “আগুন পুরোপুরি নেভেনি, তাই ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। আমাদের ২২টি ইউনিট এখনো কাজ করছে যাতে আগুন আবার না জ্বলে ওঠে।”
সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে কাউকে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
আরও পড়ুন : শাহজালালের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে, আর বাড়ার শঙ্কা নেই
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মী রেজাউল করিম রনি বলেন, “রপ্তানির মালামাল নেওয়ার কথা ছিল আজ, কিন্তু তার আগেই সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই আগুন তৈরি পোশাক খাতেও প্রভাব ফেলবে।”
শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্স ভবনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সিভিল অ্যাভিয়েশন, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা কাজ করেন।
আগুন লাগার পর সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের সব উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে ২৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চট্টগ্রাম, সিলেট ও কলকাতায় অবতরণ করে, ফলে বিপাকে পড়েন শত শত যাত্রী।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জন আনসার সদস্য। আহতদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাপড়সহ দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল, যা আগুন নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সময় লাগার অন্যতম কারণ। ক্ষতির পরিমাণ ও কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সময় সম্পর্কে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
ঢাকা ডেস্ক 









