দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্ত সংঘাতের পর চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি সংলাপ শুরু হবে। সংলাপ চলাকালীন সময় পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে উভয় পক্ষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যেই দোহায় পৌঁছেছেন, আর আফগান প্রতিনিধিদল আজ সেখানে পৌঁছাবে। অন্যদিকে, জিও নিউজ জানায়, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা শনিবার দোহায় রওনা দেবেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনা সদর দপ্তর।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতি হতে থাকে। মূল উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হলো পাকিস্তানি তালেবানপন্থি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, কাবুল সরকার টিটিপিকে আশ্রয় ও সহযোগিতা দিচ্ছে। তবে আফগানিস্তান এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন : না ফেরার দেশে ১০১ বছর বয়সী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
সম্প্রতি পাকিস্তান সেনাবাহিনী কাবুলে টিটিপির বিরুদ্ধে বিমান অভিযান চালায়, যাতে নিহত হয় গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ ও আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আফগান বাহিনী সীমান্তে হামলা চালায়, যা কয়েক দিন ধরে চলে। এই সংঘাতে পাকিস্তানি সূত্র অনুযায়ী, আফগান সেনার প্রায় ২০০ এবং পাকিস্তানের ২৩ জন সেনা নিহত হয়।
চার দিনব্যাপী সংঘর্ষের পর ১৫ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে অন্তত ৫০ জন নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হন।
রাতের মধ্যেই দুই দেশ নতুন করে যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয় এবং দোহায় শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি শুরু করে।
ঢাকা ডেস্ক 









