১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

না ফেরার দেশে ১০১ বছর বয়সী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • 95

জাপানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী তোমিইচি মুরাইয়ামা আর নেই। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০১ বছর।

১৯২৪ সালে কিউশু দ্বীপের ওইতা জেলায় জন্ম নেওয়া মুরাইয়ামা জাপানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। টোকিওর মেইজি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন এবং পরবর্তীতে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।

১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো তিনি জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষে নির্বাচিত হন এবং ধারাবাহিকভাবে নিজের আসন ধরে রাখেন। ১৯৯৩ সালে জাপান সমাজতন্ত্রী দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মুরাইয়ামা।

আরও পড়ুন : পাকিস্তানের বিমান হামলায় কান্দাহারে নিহত ৪০ জন

১৯৯৪ সালে এলডিপি (উদার গণতন্ত্রী দল) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। বিরোধী দলগুলোর জোট সরকার গঠনের সুযোগ নেয়, এবং সমাজতন্ত্রী ও এলডিপির যৌথ জোটের প্রার্থী হিসেবে মুরাইয়ামা জাপানের ৮১তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

স্বল্প সময়ের নেতৃত্বেও তিনি রেখে গেছেন অমলিন দৃষ্টান্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীন ও অন্যান্য এশীয় দেশে জাপানের আগ্রাসনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা ছিল তার সাহসী পদক্ষেপ। এই বক্তব্যের মাধ্যমে জাপানের কূটনৈতিক ইতিহাসে তৈরি হয় এক নতুন দৃষ্টান্ত।

এছাড়া, হিরোশিমা ও নাগাসাকির পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আইন পাশ করিয়ে তিনি মানবিকতার প্রতীক হয়ে ওঠেন। ওই ঘটনার বেঁচে থাকা পরিবারগুলো আজও তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

তার মৃত্যুতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “মুরাইয়ামা কঠিন সময়েও শান্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থে শান্তির দূত।”

 

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

না ফেরার দেশে ১০১ বছর বয়সী জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

জাপানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী তোমিইচি মুরাইয়ামা আর নেই। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০১ বছর।

১৯২৪ সালে কিউশু দ্বীপের ওইতা জেলায় জন্ম নেওয়া মুরাইয়ামা জাপানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। টোকিওর মেইজি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন এবং পরবর্তীতে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।

১৯৭২ সালে প্রথমবারের মতো তিনি জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষে নির্বাচিত হন এবং ধারাবাহিকভাবে নিজের আসন ধরে রাখেন। ১৯৯৩ সালে জাপান সমাজতন্ত্রী দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মুরাইয়ামা।

আরও পড়ুন : পাকিস্তানের বিমান হামলায় কান্দাহারে নিহত ৪০ জন

১৯৯৪ সালে এলডিপি (উদার গণতন্ত্রী দল) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। বিরোধী দলগুলোর জোট সরকার গঠনের সুযোগ নেয়, এবং সমাজতন্ত্রী ও এলডিপির যৌথ জোটের প্রার্থী হিসেবে মুরাইয়ামা জাপানের ৮১তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

স্বল্প সময়ের নেতৃত্বেও তিনি রেখে গেছেন অমলিন দৃষ্টান্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীন ও অন্যান্য এশীয় দেশে জাপানের আগ্রাসনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা ছিল তার সাহসী পদক্ষেপ। এই বক্তব্যের মাধ্যমে জাপানের কূটনৈতিক ইতিহাসে তৈরি হয় এক নতুন দৃষ্টান্ত।

এছাড়া, হিরোশিমা ও নাগাসাকির পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আইন পাশ করিয়ে তিনি মানবিকতার প্রতীক হয়ে ওঠেন। ওই ঘটনার বেঁচে থাকা পরিবারগুলো আজও তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

তার মৃত্যুতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “মুরাইয়ামা কঠিন সময়েও শান্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থে শান্তির দূত।”