দীর্ঘ আট মাসের সংলাপ, আলোচনা ও মতৈক্যের পথ পেরিয়ে অবশেষে স্বাক্ষরিত হলো ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’— যা দেশের রাজনৈতিক যাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে সনদটি স্বাক্ষরিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেন।
তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিনজুড়ে সংসদ ভবন এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। সকালে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। তারা অভিযোগ করেন, সনদ প্রণয়নে তাদের অবদান উপেক্ষা করা হয়েছে এবং আইনি ভিত্তি স্পষ্ট নয়। পরে কমিশন জরুরি বৈঠকে অঙ্গীকারনামার ৫নং দফা সংশোধন করে শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, পরিবারদের সহায়তা এবং আইনি দায়মুক্তির প্রতিশ্রুতি সংযোজন করে।
আরও পড়ুন : ‘কিছু দল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে’—জুলাই সনদের দিনে নাহিদের ক্ষোভ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে গঠিত এই সনদ প্রণয়নের আগে দেশের প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একাধিক ধাপে আলোচনা হয়। ৪০ পৃষ্ঠার এ নথিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিক বিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে— ব্রিটিশ শাসন থেকে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ২০০৯-২০২৪ সময়কালের স্বৈরাচারী অনুশীলনের বিশ্লেষণসহ।
সনদে বলা হয়েছে, বিগত দেড় দশকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রভাবে দুর্বল হয়েছে। বিতর্কিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) নির্বাচন ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছে।
একইসঙ্গে সনদে গত ১৬ বছরের ধারাবাহিক গণআন্দোলনের চিত্রও উঠে এসেছে— ২০১৮ সালের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী সংগ্রাম এবং অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, যা এই সনদের মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত।
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ সাতটি দফা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক নীতি, ন্যায়বিচার ও জনগণের ইচ্ছার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ঢাকা ডেস্ক 









