১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠান

জাতীয় সংগীতে শুরু, মঞ্চে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • 110

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় এই বহুল আলোচিত আয়োজনের। কিছুক্ষণের মধ্যেই মঞ্চে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মঞ্চে যোগ দেন ড. ইউনূসের সঙ্গে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, এবং ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ।

মঞ্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে দেখা যায়।

আরও পড়ুন : ইরাকে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর

তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগে বেলা ১টার দিকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাঁদের সরিয়ে দেয়। এতে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠান কিছুটা বিলম্বে শুরু হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, “সবকিছু ঠিকভাবে চলছে, অতিথিরা পৌঁছে গেছেন—আমরা ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা দেখতে যাচ্ছি।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, এবং জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “সনদটি দেশের গণতন্ত্রের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। কিছু ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।”

তবে অনুষ্ঠান ঘিরে বামধারার চারটি দল—সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ—আগেই জানিয়েছে, সংশোধিত খসড়া না পেলে তারা স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকবে। একইভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা না পাওয়ায় সরে দাঁড়ায়।

বিকেলের উত্তেজনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

জুলাই সনদ সাক্ষর অনুষ্ঠান

জাতীয় সংগীতে শুরু, মঞ্চে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয় এই বহুল আলোচিত আয়োজনের। কিছুক্ষণের মধ্যেই মঞ্চে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মঞ্চে যোগ দেন ড. ইউনূসের সঙ্গে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, এবং ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ।

মঞ্চে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে দেখা যায়।

আরও পড়ুন : ইরাকে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর

তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগে বেলা ১টার দিকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাঁদের সরিয়ে দেয়। এতে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠান কিছুটা বিলম্বে শুরু হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, “সবকিছু ঠিকভাবে চলছে, অতিথিরা পৌঁছে গেছেন—আমরা ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা দেখতে যাচ্ছি।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, এবং জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “সনদটি দেশের গণতন্ত্রের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। কিছু ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।”

তবে অনুষ্ঠান ঘিরে বামধারার চারটি দল—সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ—আগেই জানিয়েছে, সংশোধিত খসড়া না পেলে তারা স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকবে। একইভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা না পাওয়ায় সরে দাঁড়ায়।

বিকেলের উত্তেজনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়।