০৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আজ জাতীয় কন্যা শিশু দিবস, শিশুকে নিরাপদ রাখতে করণীয়

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • 154

আজ (৮ অক্টোবর) জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। ‘আমি কন্যাশিশু, স্বপ্নে গড়ি, সাহসে লড়ি, দেশের কল্যাণে কাজ করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৫ উদযাপিত হচ্ছে।

আমাদের সমাজে কন্যাশিশুরা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয় সেই আদিকাল থেকেই। তারা এই বৈষম্যমূলক আচরণের মধ্যে বেড়ে ওঠার কারণে যদি পারিবারের ভেতরে বা বাইরে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন বা যৌন হয়রানির শিকার হয়, সেই কথাও কাউকে বলতে দ্বিধা বোধ করে। শৈশবের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাকে মানসিকভাবে ট্রমায় ফেলে দিতে পারে যা তার জীবনে র্দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কন্যাশিশুদের জন্য শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই কন্যাসন্তানদের গুড টাচ এবং ব্যাড টাচের পার্থক্য শেখানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবারের দায়িত্ব। কন্যাশিশুর নিরাপত্তা সম্পর্কে যেভাবে সচেতন থাকবেন-

 

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পার্থক্য শেখানো

কন্যাশিশুকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে হবে। কোন অঙ্গ স্পর্শ করা নিরাপদ এবং কোনটি নয়, তা বোঝানোর জন্য বাবা-মাকে সহজ ভাষায় আলোচনা করা।

দুরত্ব বজায় রাখা

শিশুকে শেখাতে হবে বাবা-মা, ভাইবোন ছাড়া অন্য যে কারো কাছ থেকে কতটুকু দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে কোন ব্যক্তি কতটুকু তার কাছে আসতে পারবে এবং সে কার কাছে কতটুকু যেতে পারবে।

সীমারেখা শেখানো

শিশুকে শিখাতে হবে, কেউ যদি তাদের অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করে এবং তা যদি অস্বস্তিকর হয়, তবে সেটি অবিলম্বে না বলতে শেখানো জরুরি। শিশুকে বোঝাতে হবে যে তারা “না” বলতে পারে, এমনকি যদি সেই ব্যক্তি তাদের পরিচিত হয়।

শিশুর আচরণে মনোযোগ দেওয়া

শিশুর আচরণের দিকেও মনোযোগ দিন। কোনো আত্মীয়র প্রতি শিশুর বিরূপ মনোভাব দেখলে সাবধান হয়ে যান এবং এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। তার কাছে যেতে শিশুটি অস্বস্তিবোধ করে, কিংবা তাকে দেখে ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলে, তাহলে তাকে জোর না করে, সুন্দরভাবে কথা বলে কারণ জানার চেষ্টা করতে হবে।

কথা গোপন না করা

কন্যাশিশুকে বোঝাতে হবে, কেউ যদি তাকে খারাপ স্পর্শ করে এবং সেটা গোপন রাখতে বলে, তবে সেটি ভুল। সে সবসময় বাবা-মাকে সবকিছু বলতে পারবে এবং বাবা-মা সবসময় তার পাশে থাকবে।

ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে

অনেক বাবা-মা শিশুর প্রতি ভালোবাসা কাজে তা প্রকাশ পেলেও মুখে তা প্রকাশ করেন না। যে কোনো ধরনের অনুভূতি শিশুর কাছে প্রকাশ করতে হবে। ভালোবাসলে বলতে হবে, রাগ করলে বলতে হবে, কষ্ট পেলে বলতে হবে। এতে শিশুর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হবে।

বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক তৈরি করা: শিশুরা যদি অনুভব করে যে তাদের বাবা-মা তাদের প্রতি মনোযোগী এবং বিশ্বাসযোগ্য, তবে তারা যেকোনো সমস্যায় বাবা-মায়ের কাছে এসে বলবে। এই বিশ্বাসের সম্পর্ক তাদের সুরক্ষা দিতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করবে।

শিশুর প্রতি বিশ্বাস রাখা

বাবা-মা সমাজের ভালো-মন্দের বিভেদ বুঝিয়ে দিতে পারে তাহলে সন্তান আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। নিজে কিছু করার বিশ্বাস পাবে। শিশুকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। তাহলেই সে বন্ধুর মতো সবকিছু বলতে পারবে।

শিশুর অনুভূতি গুরুত্বের সঙ্গে শুনুন

শিশুরা যদি কোনো অস্বস্তিকর স্পর্শের ব্যাপারে জানায়, তাহলে সেটা গুরুত্বের সঙ্গে শুনতে হবে। তাদের কথা বিশ্বাস করে তাদেরকে আশ্বস্ত করা জরুরি যে তারা নিরাপদ এবং বাবা-মা তাদের পাশে আছে।

অনলাইনে সাবধান থাকা

অনলাইনে কন্যাশিশু কারো দ্বারা বুলিং বা হয়রানির শিকার হলে সে যেন লুকিয়ে না রেখে জানাতে পারে, সে ব্যাপারে তাকে আশ্বস্ত করুন। তাকে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট চিনতে শেখাতে হবে। এছাড়া বিশ্বাসযোগ্য সূত্র চিনতে সাহায্য করুন।

সূত্র: মিডিয়াম,ইউনিসেফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আজ জাতীয় কন্যা শিশু দিবস, শিশুকে নিরাপদ রাখতে করণীয়

সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

আজ (৮ অক্টোবর) জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। ‘আমি কন্যাশিশু, স্বপ্নে গড়ি, সাহসে লড়ি, দেশের কল্যাণে কাজ করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৫ উদযাপিত হচ্ছে।

আমাদের সমাজে কন্যাশিশুরা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয় সেই আদিকাল থেকেই। তারা এই বৈষম্যমূলক আচরণের মধ্যে বেড়ে ওঠার কারণে যদি পারিবারের ভেতরে বা বাইরে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন বা যৌন হয়রানির শিকার হয়, সেই কথাও কাউকে বলতে দ্বিধা বোধ করে। শৈশবের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাকে মানসিকভাবে ট্রমায় ফেলে দিতে পারে যা তার জীবনে র্দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কন্যাশিশুদের জন্য শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই কন্যাসন্তানদের গুড টাচ এবং ব্যাড টাচের পার্থক্য শেখানো এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবারের দায়িত্ব। কন্যাশিশুর নিরাপত্তা সম্পর্কে যেভাবে সচেতন থাকবেন-

 

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পার্থক্য শেখানো

কন্যাশিশুকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে হবে। কোন অঙ্গ স্পর্শ করা নিরাপদ এবং কোনটি নয়, তা বোঝানোর জন্য বাবা-মাকে সহজ ভাষায় আলোচনা করা।

দুরত্ব বজায় রাখা

শিশুকে শেখাতে হবে বাবা-মা, ভাইবোন ছাড়া অন্য যে কারো কাছ থেকে কতটুকু দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে কোন ব্যক্তি কতটুকু তার কাছে আসতে পারবে এবং সে কার কাছে কতটুকু যেতে পারবে।

সীমারেখা শেখানো

শিশুকে শিখাতে হবে, কেউ যদি তাদের অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করে এবং তা যদি অস্বস্তিকর হয়, তবে সেটি অবিলম্বে না বলতে শেখানো জরুরি। শিশুকে বোঝাতে হবে যে তারা “না” বলতে পারে, এমনকি যদি সেই ব্যক্তি তাদের পরিচিত হয়।

শিশুর আচরণে মনোযোগ দেওয়া

শিশুর আচরণের দিকেও মনোযোগ দিন। কোনো আত্মীয়র প্রতি শিশুর বিরূপ মনোভাব দেখলে সাবধান হয়ে যান এবং এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। তার কাছে যেতে শিশুটি অস্বস্তিবোধ করে, কিংবা তাকে দেখে ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলে, তাহলে তাকে জোর না করে, সুন্দরভাবে কথা বলে কারণ জানার চেষ্টা করতে হবে।

কথা গোপন না করা

কন্যাশিশুকে বোঝাতে হবে, কেউ যদি তাকে খারাপ স্পর্শ করে এবং সেটা গোপন রাখতে বলে, তবে সেটি ভুল। সে সবসময় বাবা-মাকে সবকিছু বলতে পারবে এবং বাবা-মা সবসময় তার পাশে থাকবে।

ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে

অনেক বাবা-মা শিশুর প্রতি ভালোবাসা কাজে তা প্রকাশ পেলেও মুখে তা প্রকাশ করেন না। যে কোনো ধরনের অনুভূতি শিশুর কাছে প্রকাশ করতে হবে। ভালোবাসলে বলতে হবে, রাগ করলে বলতে হবে, কষ্ট পেলে বলতে হবে। এতে শিশুর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হবে।

বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক তৈরি করা: শিশুরা যদি অনুভব করে যে তাদের বাবা-মা তাদের প্রতি মনোযোগী এবং বিশ্বাসযোগ্য, তবে তারা যেকোনো সমস্যায় বাবা-মায়ের কাছে এসে বলবে। এই বিশ্বাসের সম্পর্ক তাদের সুরক্ষা দিতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করবে।

শিশুর প্রতি বিশ্বাস রাখা

বাবা-মা সমাজের ভালো-মন্দের বিভেদ বুঝিয়ে দিতে পারে তাহলে সন্তান আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। নিজে কিছু করার বিশ্বাস পাবে। শিশুকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। তাহলেই সে বন্ধুর মতো সবকিছু বলতে পারবে।

শিশুর অনুভূতি গুরুত্বের সঙ্গে শুনুন

শিশুরা যদি কোনো অস্বস্তিকর স্পর্শের ব্যাপারে জানায়, তাহলে সেটা গুরুত্বের সঙ্গে শুনতে হবে। তাদের কথা বিশ্বাস করে তাদেরকে আশ্বস্ত করা জরুরি যে তারা নিরাপদ এবং বাবা-মা তাদের পাশে আছে।

অনলাইনে সাবধান থাকা

অনলাইনে কন্যাশিশু কারো দ্বারা বুলিং বা হয়রানির শিকার হলে সে যেন লুকিয়ে না রেখে জানাতে পারে, সে ব্যাপারে তাকে আশ্বস্ত করুন। তাকে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট চিনতে শেখাতে হবে। এছাড়া বিশ্বাসযোগ্য সূত্র চিনতে সাহায্য করুন।

সূত্র: মিডিয়াম,ইউনিসেফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়