১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আটক অবস্থায় গ্রেটা থুনবার্গকে নির্যাতন করে ইসরায়েল

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • 100

গাজায় ত্রাণবাহী নৌবহর ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একই অভিযানে অংশ নেওয়া একাধিক আন্তর্জাতিক কর্মী। শনিবার (৪ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

তুরস্কে ফেরত পাঠানো কর্মীদের মধ্যে থাকা সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, থুনবার্গকে আটক অবস্থায় মাটিতে টেনে নিয়ে যাওয়া, ইসরায়েলি পতাকা চুম্বন করতে বাধ্য করা, এমনকি পতাকা মুড়িয়ে প্রদর্শন করা হয়।

তুর্কি সাংবাদিক এরসিন সেলিক, যিনি নিজেও ওই ফ্লোটিলায় ছিলেন, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন,“আমি নিজ চোখে দেখেছি, কীভাবে থুনবার্গকে মাটিতে ফেলে টেনে নেওয়া হচ্ছিল। তাকে ইসরায়েলি পতাকায় চুম্বন করতে বাধ্য করা হয়।”

আরও পড়ুন : ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, গরম বাড়ার আভাস

মালয়েশিয়ার কর্মী হাজওয়ানি হেলমি ও মার্কিন অংশগ্রহণকারী উইন্ডফিল্ড বিভার ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছে একই অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, থুনবার্গকে ধাক্কা দিয়ে পতাকা হাতে প্যারেড করানো হয়, এবং আটককালে পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়নি।

বিভার আরও জানান,“থুনবার্গের সঙ্গে ভয়ঙ্কর আচরণ করা হয় এবং সেটি প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।”

ইতালীয় সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো, যিনি ওই নৌবহরে ছিলেন, তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে বলেন,“মাত্র ২২ বছর বয়সী এই তরুণীকে অপমানিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি পতাকায় মুড়ে তাকে যেন ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়েছে।”

তুর্কি উপস্থাপক ইকবাল গুরপিনার আরও জানান, আটককালে তাদের খাবার-পানি থেকে বঞ্চিত রাখা হয় এবং চরম গরমে তিন দিন না খেয়ে থাকতে হয়। তিনি বলেন,“আমাদের এমনভাবে আচরণ করা হয়েছে যেন আমরা মানুষ নই। এই অভিজ্ঞতা আমাকে গাজার জনগণের কষ্ট আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে।”

এর আগে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা ৪০টি নৌকা ও প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে। ঘটনাটির পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েল জানিয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে যারা এখনও হেফাজতে রয়েছেন, তাদের শিগগিরই ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আটক অবস্থায় গ্রেটা থুনবার্গকে নির্যাতন করে ইসরায়েল

সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

গাজায় ত্রাণবাহী নৌবহর ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একই অভিযানে অংশ নেওয়া একাধিক আন্তর্জাতিক কর্মী। শনিবার (৪ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

তুরস্কে ফেরত পাঠানো কর্মীদের মধ্যে থাকা সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, থুনবার্গকে আটক অবস্থায় মাটিতে টেনে নিয়ে যাওয়া, ইসরায়েলি পতাকা চুম্বন করতে বাধ্য করা, এমনকি পতাকা মুড়িয়ে প্রদর্শন করা হয়।

তুর্কি সাংবাদিক এরসিন সেলিক, যিনি নিজেও ওই ফ্লোটিলায় ছিলেন, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন,“আমি নিজ চোখে দেখেছি, কীভাবে থুনবার্গকে মাটিতে ফেলে টেনে নেওয়া হচ্ছিল। তাকে ইসরায়েলি পতাকায় চুম্বন করতে বাধ্য করা হয়।”

আরও পড়ুন : ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, গরম বাড়ার আভাস

মালয়েশিয়ার কর্মী হাজওয়ানি হেলমি ও মার্কিন অংশগ্রহণকারী উইন্ডফিল্ড বিভার ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছে একই অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, থুনবার্গকে ধাক্কা দিয়ে পতাকা হাতে প্যারেড করানো হয়, এবং আটককালে পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়নি।

বিভার আরও জানান,“থুনবার্গের সঙ্গে ভয়ঙ্কর আচরণ করা হয় এবং সেটি প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।”

ইতালীয় সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো, যিনি ওই নৌবহরে ছিলেন, তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে বলেন,“মাত্র ২২ বছর বয়সী এই তরুণীকে অপমানিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি পতাকায় মুড়ে তাকে যেন ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়েছে।”

তুর্কি উপস্থাপক ইকবাল গুরপিনার আরও জানান, আটককালে তাদের খাবার-পানি থেকে বঞ্চিত রাখা হয় এবং চরম গরমে তিন দিন না খেয়ে থাকতে হয়। তিনি বলেন,“আমাদের এমনভাবে আচরণ করা হয়েছে যেন আমরা মানুষ নই। এই অভিজ্ঞতা আমাকে গাজার জনগণের কষ্ট আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে।”

এর আগে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা ৪০টি নৌকা ও প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মীকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে। ঘটনাটির পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েল জানিয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে যারা এখনও হেফাজতে রয়েছেন, তাদের শিগগিরই ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে।