০৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৯ জন নিহত

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪১:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 79

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নিরন্তর হামলায় আবারও ঝরল প্রাণ। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এক দিনে অন্তত ৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ হাজার ৬০ জনে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে নতুন করে ৫০ জনের মরদেহ পৌঁছেছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৮৪ জন। ফলে এখন পর্যন্ত আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৪৬ জনে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ধ্বংসস্তূপ ও রাস্তায় এখনও বহু মরদেহ পড়ে আছে, যাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি উদ্ধারকর্মীদের জন্য।

মানবিক সহায়তা সংগ্রহের সময়ও থেমে নেই রক্তপাত। গত এক দিনে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও ৪৮ জন আহত হন। শুধু ত্রাণের জন্য ভিড় জমানো মানুষদের ওপর গুলি চালনায় ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত এবং প্রায় ১৮ হাজার ৮১৭ জন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন : গাজা যুদ্ধ থামানোর নতুন রূপরেখায় রাজি নেতানিয়াহু 

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ হাজার ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৫৬ হাজারের বেশি। এর মাধ্যমে জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

গাজায় প্রতিদিনই বাড়ছে নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা। একইসঙ্গে মানবিক সংকট পৌঁছেছে ভয়াবহ মাত্রায়। ত্রাণের অভাব, ভাঙা হাসপাতাল আর নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণ—সব মিলিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটিতে বেঁচে থাকা হয়ে উঠেছে এক দুঃসহ সংগ্রাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৯ জন নিহত

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪১:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নিরন্তর হামলায় আবারও ঝরল প্রাণ। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এক দিনে অন্তত ৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ হাজার ৬০ জনে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে নতুন করে ৫০ জনের মরদেহ পৌঁছেছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৮৪ জন। ফলে এখন পর্যন্ত আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৪৬ জনে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ধ্বংসস্তূপ ও রাস্তায় এখনও বহু মরদেহ পড়ে আছে, যাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি উদ্ধারকর্মীদের জন্য।

মানবিক সহায়তা সংগ্রহের সময়ও থেমে নেই রক্তপাত। গত এক দিনে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও ৪৮ জন আহত হন। শুধু ত্রাণের জন্য ভিড় জমানো মানুষদের ওপর গুলি চালনায় ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত এবং প্রায় ১৮ হাজার ৮১৭ জন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন : গাজা যুদ্ধ থামানোর নতুন রূপরেখায় রাজি নেতানিয়াহু 

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ হাজার ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৫৬ হাজারের বেশি। এর মাধ্যমে জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

গাজায় প্রতিদিনই বাড়ছে নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা। একইসঙ্গে মানবিক সংকট পৌঁছেছে ভয়াবহ মাত্রায়। ত্রাণের অভাব, ভাঙা হাসপাতাল আর নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণ—সব মিলিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটিতে বেঁচে থাকা হয়ে উঠেছে এক দুঃসহ সংগ্রাম।