ইসরায়েল ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে আন্তর্জাতিক নৌবহরকে থামিয়ে দিতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে ‘সুমুদ’ নৌবহর যখন গাজার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, তখন ইহুদিবাদী ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জাহাজ জব্দের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এই আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগের প্রতি ইসরায়েলি হুমকি প্রমাণ করে যে, ইসরায়েল কেবল সশস্ত্র প্রতিরোধ নয়, বেসামরিক ও মানবিক প্রতিরোধকেও ভয় পায়।
প্রায় ৫০টি জাহাজ ও নৌকা নিয়ে গঠিত এই নৌবহরে ৪০টি দেশের ৫০০-এরও বেশি ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন। স্পেনের উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করা এই বহর বর্তমানে গাজা থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এতে রয়েছে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী—যা গাজার অবরুদ্ধ মানুষের জন্য পাঠানো হচ্ছে।
গত মার্চ থেকে গাজার সব প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় এবং ইসরায়েলি বাধার কারণে মানবিক সহায়তা আটকে যাওয়ায় এই নৌবহর বিশ্বজনীন সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং দখলদার ইসরায়েলের অমানবিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনারা তাদের নৌ কমান্ডো ইউনিট ‘শায়েতেত ১৩’-কে প্রস্তুত অবস্থায় রেখেছে এবং হুমকি দিয়ে বলেছে, নৌবহর গাজার পানি সীমায় প্রবেশ করলে সামরিক অভিযান চালিয়ে জাহাজগুলো আটক করা হবে। এই নৌবহরের জাহাজগুলো সম্পূর্ণ বেসামরিক এবং শান্তিকর্মীদের বহন করছে।
আরও পড়ুন : ইউরোপের আরও একটি দেশের স্বীকৃতি পেল ফিলিস্তিন
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সম্প্রতি এই কমান্ডো ইউনিট সমুদ্রে জাহাজ আটকানোর মহড়া দিয়েছে—যা প্রমাণ করে তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে।
কিন্তু কেন দখলদার ইসরায়েল একটি মানবিক ও বেসামরিক উদ্যোগকে এত ভয় পাচ্ছে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের প্রকৃতি ও নীতিতে। বহু বছর ধরে ইসরায়েল সামরিক, কূটনৈতিক ও গণমাধ্যমের মতো নানা হাতিয়ার ব্যবহার করে নিজেদের বৈধ হিসেবে বিশ্বে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। অথচ ‘সুমুদ’ নৌবহরের মতো উদ্যোগগুলো সেই মুখোশ ছিঁড়ে দিচ্ছে। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার নাগরিকদের উপস্থিতি প্রমাণ করছে, বিশ্ব বিবেক ইসরায়েলের অপরাধের বিরুদ্ধে জেগে উঠছে।
এই নৌবহর শুধু ত্রাণ সহায়তাই বহন করছে না বরং বহন করছে সংহতির বার্তা, প্রতিবাদ ও বেসামরিক প্রতিরোধের প্রতীক—যা ইসরায়েলের মধ্যে আতঙ্ক
ঢাকা ডেস্ক 









