০২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি বিশ্বনেতাদের দৃঢ় সমর্থন

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 107

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিশ্বের একাধিক শীর্ষ নেতা। তারা ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানান এবং বাংলাদেশের উত্তরণের পথে নানামুখী সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিজামী গাঞ্জাভি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের (এনজিআইসি) সহ-সভাপতি ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবার্গার এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পাহর, সার্বিয়ার বরিস তাদিচ, লাটভিয়ার এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার রোসেন প্লেভনেলিয়েভ ও পেতার স্তোয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার ইভো জোসিপোভিচ, বসনিয়ার এমলাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিমসহ আরও অনেকে।

এ বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চারজন সাবেক সভাপতি, কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা ড. ইউনূসের দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচারে অবদানের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছি এবং আপনার নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানাই।” অনেকেই অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক সংস্কারে বিশেষজ্ঞ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

আরও পড়ুন : ভাত না রুটি: কোনটি বেশি উপকারী?

কেরি কেনেডি তার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশ মানবাধিকার অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।” জর্জটাউন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মেল্যান ভারভির জানান, প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেবে।

বৈঠকে অভিভূত হয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এ সমর্থন আমার কাছে অপ্রত্যাশিত। একসঙ্গে আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে দেখে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।” তিনি বর্তমান চ্যালেঞ্জকে গত ১৫ বছরের দুর্বিষহ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “এটা যেন রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প থেকে পুনরুদ্ধার করার মতো কঠিন কাজ।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, জনগণ তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আশা করে হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে আছে। তবু তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করে ইউনূস বলেন, “আমাদের দরকার আপনাদের দিকনির্দেশনা, সমর্থন এবং নৈতিক শক্তি।”

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি বিশ্বনেতাদের দৃঢ় সমর্থন

সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিশ্বের একাধিক শীর্ষ নেতা। তারা ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানান এবং বাংলাদেশের উত্তরণের পথে নানামুখী সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিজামী গাঞ্জাভি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের (এনজিআইসি) সহ-সভাপতি ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবার্গার এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পাহর, সার্বিয়ার বরিস তাদিচ, লাটভিয়ার এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার রোসেন প্লেভনেলিয়েভ ও পেতার স্তোয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার ইভো জোসিপোভিচ, বসনিয়ার এমলাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিমসহ আরও অনেকে।

এ বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চারজন সাবেক সভাপতি, কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা ড. ইউনূসের দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচারে অবদানের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছি এবং আপনার নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানাই।” অনেকেই অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক সংস্কারে বিশেষজ্ঞ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

আরও পড়ুন : ভাত না রুটি: কোনটি বেশি উপকারী?

কেরি কেনেডি তার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশ মানবাধিকার অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।” জর্জটাউন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মেল্যান ভারভির জানান, প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেবে।

বৈঠকে অভিভূত হয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এ সমর্থন আমার কাছে অপ্রত্যাশিত। একসঙ্গে আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে দেখে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।” তিনি বর্তমান চ্যালেঞ্জকে গত ১৫ বছরের দুর্বিষহ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “এটা যেন রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প থেকে পুনরুদ্ধার করার মতো কঠিন কাজ।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, জনগণ তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আশা করে হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে আছে। তবু তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করে ইউনূস বলেন, “আমাদের দরকার আপনাদের দিকনির্দেশনা, সমর্থন এবং নৈতিক শক্তি।”

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।