জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০ তম অধিবেশনে ভিডিও দেওয়া এক ভাষণে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গাজায় ইসরায়েলের চলমান বর্বরতম আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।
তিনি ইসরায়েরের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে গাজায় আমাদের ফিলিস্তিনি জনগণ গণহত্যা, ধ্বংস, ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতির মুখোমুখি হয়ে চলেছে।
প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, “ইসরায়েলের যা চলছে, তা শুধু আগ্রাসন নয়। এটি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ, যা প্রমাণিত এবং নথিভুক্ত, ইতিহাসে মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে।”
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
আল জাজিরা বলছে, আব্বাস তার বক্তব্য শুরু করেন গাজায় ইসরায়েলের “গণহত্যামূলক যুদ্ধের” নিন্দা জানিয়ে।
আরও পড়ুন : জুমার খুতবা চলাকালে দানবাক্স চালানো যাবে কি? ইসলাম যা বলে
মঙ্গলবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল গত দুই বছরে গাজায় “পদ্ধতিগতভাবে বেসামরিক জীবন ধ্বংস করেছে”। কূপ, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি শোধনাগার ধ্বংসের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও কবরস্থানও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের বিষয়ে আব্বাস বলেন, চরমপন্থি ইসরায়েলি সরকার অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে দখলদারিত্ব এগিয়ে নিচ্ছে। অবৈধ বসতি স্থাপনের কারণে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
চলমান সহিংসতার মাঝেই আব্বাস হামাসের সমালোচনাও করেন।
তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের বেসামরিক হত্যা ও মানুষ অপহরণের ঘটনা “ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, কিংবা স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের অংশ নয়।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “হামাস শাসন ব্যবস্থায় কোনো ভূমিকা পাবে না”। রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠীকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৫ হাজার ৪১৯ জন নিহত এবং ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৬০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজারো মানুষের লাশ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণে ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জনকে বন্দি করে গাজায় আনা হয়েছিল।
ঢাকা ডেস্ক 









