০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সাপের ম্যাসেজ, ঠান্ডা স্পর্শে মিলছে আরাম অনুভূতি!

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 107

অজগর সাপ। ছবি : সংগৃহীত

ভাবুন তো কাঠের বিছানায় শুয়ে আছেন, আপনার চারপাশে বিশাল অজগর সাপগুলো ধীরে ধীরে শরীরের উপর দিয়ে হাঁটছে! ভয় লাগবে? না কি রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে? এমন বাস্তবতায় সাপের ভয়ে কারো কারো হয়তো থর থর করে কাঁপবে শরীর। কিন্তু দৃশ্য যেন তার বিপরীত। যেখানে ঠান্ডা সাপের স্পর্শে মিলছে আরাম অনুভূতি। এটি এমনই এক অদ্ভুত থেরাপি যার নাম স্নেক বা সাপ ম্যাসাজ।

ফিলিপাইনের আকলান প্রদেশের কালিবো ওস্ট্রিচ ফার্মে পর্যটকরা প্রতিদিনই এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করছেন। যেখানে সাপই থেরাপিস্ট। অর্থাৎ স্নায়ুর চাপ কমাতে এবং মানসিক জোর বাড়াতে সাপের সাহায্যে ম্যাসাজ করা হয়। এই ফার্মটি পর্যটকদের দিচ্ছে এক অসাধারণ সুযোগ; তারা ক্লান্তি দূর করতে, আরাম করতে পারবেন জীবন্ত সাপ দিয়ে ম্যাসাজের মাধ্যমে।

ভিডিওতে দেখা যায়, পর্যটক কাঠের বিছানায় শুয়ে আছেন আর তাদের শরীরে দিয়ে চলে যাচ্ছে বার্মিজ ও অ্যালবিনো অজগর। সাপের স্পর্শে তারা এক অদ্ভুত শীতলতার অনুভূতি পাচ্ছেন, যা একেবারে স্বাভাবিক ম্যাসাজের থেকে আলাদা।

আরও পড়ুন : ঘুমালেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে মানুষখেকো নেকড়ে!

জেসিকা নামে এক জানান, এই স্নেক ম্যাসাজের খবর তিনি পেয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া এবং বন্ধুদের কাছ থেকে। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো ভয়ের ব্যাপার নয়, বরং খুবই আরামদায়ক! সাপের দেহ শীতল এবং মনে হচ্ছিল তারা যেন আমার পুরো শরীরের ম্যাসাজ করছে।’

সাপের এই ম্যাসাজের জন্য ফার্মে রয়েছে তিনটি বার্মিজ এবং দুটি অ্যালবিনো অজগর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতে, ম্যাসাজের আগে সাপগুলোর ভালোভাবে গোসল করানো হয় যাতে কোনো অপ্রীতিকর গন্ধ না থাকে। ম্যাসাজের প্রতি ৩০ মিনিটের জন্য খরচ হয় ৩০০ ফিলিপাইন পেসো, প্রায় ৫৫০-৫৬০ বাংলাদেশি টাকা।

আরও পড়ুন : শিশু শিকারি হেনরির ৬ স্ত্রী, ১০ হাজার সন্তানের বাবা!

সাপের এই ম্যাসাজ শুধু পর্যটকদেরই নয়, স্থানীয়দের মধ্যেও পাচ্ছে জনপ্রিয়তা। ফার্মের মালিক র‍্যামন ডিয়ো জানান, এই ম্যাসাজের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। সাপগুলোকে সবসময় পেট ভরে খাওয়ানো হয়, যাতে তাদের কোনোভাবেই আক্রমণাত্মক না হয়ে ওঠে। এছাড়া সাপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়।

র‌্যামন বলেন, ‘এই অজগরগুলো পোষ মানানো এবং মানব সমাজে অভ্যস্ত। তবে, সাপের ম্যাসাজ চলাকালীন সময়ে সাপ ধরার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীরা সর্বদা পর্যবেক্ষণে থাকেন।’

অনেকে এই ম্যাসাজের মাধ্যমে সাপের ভীতি কাটিয়ে উঠছেন, অনেক গ্রাহকই বারবার ফিরে আসেন এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

সাপের ম্যাসেজ, ঠান্ডা স্পর্শে মিলছে আরাম অনুভূতি!

সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভাবুন তো কাঠের বিছানায় শুয়ে আছেন, আপনার চারপাশে বিশাল অজগর সাপগুলো ধীরে ধীরে শরীরের উপর দিয়ে হাঁটছে! ভয় লাগবে? না কি রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে? এমন বাস্তবতায় সাপের ভয়ে কারো কারো হয়তো থর থর করে কাঁপবে শরীর। কিন্তু দৃশ্য যেন তার বিপরীত। যেখানে ঠান্ডা সাপের স্পর্শে মিলছে আরাম অনুভূতি। এটি এমনই এক অদ্ভুত থেরাপি যার নাম স্নেক বা সাপ ম্যাসাজ।

ফিলিপাইনের আকলান প্রদেশের কালিবো ওস্ট্রিচ ফার্মে পর্যটকরা প্রতিদিনই এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করছেন। যেখানে সাপই থেরাপিস্ট। অর্থাৎ স্নায়ুর চাপ কমাতে এবং মানসিক জোর বাড়াতে সাপের সাহায্যে ম্যাসাজ করা হয়। এই ফার্মটি পর্যটকদের দিচ্ছে এক অসাধারণ সুযোগ; তারা ক্লান্তি দূর করতে, আরাম করতে পারবেন জীবন্ত সাপ দিয়ে ম্যাসাজের মাধ্যমে।

ভিডিওতে দেখা যায়, পর্যটক কাঠের বিছানায় শুয়ে আছেন আর তাদের শরীরে দিয়ে চলে যাচ্ছে বার্মিজ ও অ্যালবিনো অজগর। সাপের স্পর্শে তারা এক অদ্ভুত শীতলতার অনুভূতি পাচ্ছেন, যা একেবারে স্বাভাবিক ম্যাসাজের থেকে আলাদা।

আরও পড়ুন : ঘুমালেই টেনে নিয়ে যাচ্ছে মানুষখেকো নেকড়ে!

জেসিকা নামে এক জানান, এই স্নেক ম্যাসাজের খবর তিনি পেয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া এবং বন্ধুদের কাছ থেকে। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো ভয়ের ব্যাপার নয়, বরং খুবই আরামদায়ক! সাপের দেহ শীতল এবং মনে হচ্ছিল তারা যেন আমার পুরো শরীরের ম্যাসাজ করছে।’

সাপের এই ম্যাসাজের জন্য ফার্মে রয়েছে তিনটি বার্মিজ এবং দুটি অ্যালবিনো অজগর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতে, ম্যাসাজের আগে সাপগুলোর ভালোভাবে গোসল করানো হয় যাতে কোনো অপ্রীতিকর গন্ধ না থাকে। ম্যাসাজের প্রতি ৩০ মিনিটের জন্য খরচ হয় ৩০০ ফিলিপাইন পেসো, প্রায় ৫৫০-৫৬০ বাংলাদেশি টাকা।

আরও পড়ুন : শিশু শিকারি হেনরির ৬ স্ত্রী, ১০ হাজার সন্তানের বাবা!

সাপের এই ম্যাসাজ শুধু পর্যটকদেরই নয়, স্থানীয়দের মধ্যেও পাচ্ছে জনপ্রিয়তা। ফার্মের মালিক র‍্যামন ডিয়ো জানান, এই ম্যাসাজের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। সাপগুলোকে সবসময় পেট ভরে খাওয়ানো হয়, যাতে তাদের কোনোভাবেই আক্রমণাত্মক না হয়ে ওঠে। এছাড়া সাপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়।

র‌্যামন বলেন, ‘এই অজগরগুলো পোষ মানানো এবং মানব সমাজে অভ্যস্ত। তবে, সাপের ম্যাসাজ চলাকালীন সময়ে সাপ ধরার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীরা সর্বদা পর্যবেক্ষণে থাকেন।’

অনেকে এই ম্যাসাজের মাধ্যমে সাপের ভীতি কাটিয়ে উঠছেন, অনেক গ্রাহকই বারবার ফিরে আসেন এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।