সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভাসমান মানুষদের ধরে চুল ও জটা কেটে গোসল করিয়ে নতুন পোশাক পরিয়ে দিচ্ছে কিছু তরুণ। ভিডিওগুলোর ভিউ লাখ থেকে কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা আর বিতর্ক। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ‘মানবিক মাহবুব’ নামে পরিচিত যুবক মাহবুব।
তবে এক ফেসবুক লাইভে মাহবুব দাবি করেছেন, তার টিম জোরপূর্বক কোনো কাজ করে না। তিনি অভিযোগ করেন, অনেকেই তার নাম ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, যা তাদের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তার ভাষায়— “আমাদের কাজ নিয়ে ইদানীং প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে। আমরা কখনো কাউকে কষ্ট দিইনি। কিন্তু এখন অনেকেই বলছে তারা আমার টিম, অথচ আমি একটাই টিম পরিচালনা করি। অন্য কোনো জেলায় আমাদের কোনো দল নেই।”
আরও পড়ুন : হৃতিককে বিয়ে করা নিয়ে মুখ খুললেন সাবা
২০২০ সালে এসএসসি শেষ করে ঢাকায় এসে প্রথম এসব কাজে যুক্ত হন মাহবুব। দুই বছর আগে নিয়মিতভাবে ভাসমান মানুষদের খাবার দেওয়া ও পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করেন তিনি। মাহবুব বলেন, এ সময় পর্যন্ত কোনো বড় প্রশ্নের মুখে পড়েননি।
তবে সমালোচনার বড় কারণ তার ফেসবুক পেজ Mahbub Creation–এর কিছু ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, জটাধারী অনেক মানুষ চুল কাটতে না চাইলে তার দল জোর করে তাদের ধরে চুল কাটছে। এমনকি এক ভিডিওতে এক ব্যক্তি প্রাণপণে বাধা দিলেও তাকে ছাড়েনি মাহবুবের টিম। এসব ভিডিওর নিচে যেমন প্রশংসা আছে, তেমনি অনেক মন্তব্যে ঘটনাগুলোকে ‘অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাহবুবের ব্যাখ্যা, “যদি কেউ আমার নাম ব্যবহার করে এভাবে ব্যবসা করে, সেটা ভুল। ভালো কাজ সবাই করতে পারে, তবে আমার নাম ভাঙিয়ে অন্যায়ভাবে করলে সেটা আমাদের জন্য বিব্রতকর। আমরা সবসময় ভাসমান মানুষদের সঙ্গে নমনীয় আচরণ করি, জোর করি না। কিন্তু কিছু ভিডিও দেখে আমিও কষ্ট পাই।”
সমাজসেবার আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড আসলেই সেবা নাকি ব্যক্তিগত বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ— তা নিয়ে এখনো চলছে তুমুল বিতর্ক।
ঢাকা ডেস্ক 









