০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সৌরজগতের কাছেই পাওয়া যেতে পারে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 97

সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর মধ্যে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধান করে বিজ্ঞানীরা নতুনভাবে আশার আলো পেয়েছেন। ২০১৭ সালে একটি দূরবর্তী নক্ষত্রমণ্ডল আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা আমাদের সৌরজগতের মতোই সাতটি পাথুরে গ্রহকে প্রদক্ষিণ করছে। এই নক্ষত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্র্যাপিস্ট-১’।

পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্রের তিনটি গ্রহ বিশেষভাবে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রথম দুটি গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা কম হলেও, তৃতীয় গ্রহটি—‘ট্র্যাপিস্ট-১ই’ বা প্ল্যানেট ই—প্রাণের জন্য উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। গ্রহটি তার নক্ষত্রকে ৪ থেকে ৭৩ দিনের মধ্যে প্রদক্ষিণ করে, যার কারণে পর্যাপ্ত তাপমাত্রা বজায় থাকে এবং জল তরল অবস্থায় থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, জন্মলগ্নে এই গ্রহে হাইড্রোজেন-সমৃদ্ধ ঘন বায়ুমণ্ডল থাকলেও নক্ষত্রের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এটিকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করেছে। তবে আশার কথা হলো, প্ল্যানেট ই-তে গৌণ বায়ুমণ্ডল থাকতে পারে, যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাসের উপস্থিতি সম্ভাব্য।

আরও পড়ুন : বাংলাদেশকে দেখে পাকিস্তানকে শেখার পরামর্শ কামরান আকমলের

‘জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ’-এর পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ট্রান্সমিশন স্পেকট্রোস্কোপি পদ্ধতির মাধ্যমে এই গ্রহে বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্বের প্রাথমিক ইঙ্গিত পেয়েছেন। এই পদ্ধতিতে গ্রহের বায়ুমণ্ডল থেকে আলোর বিকিরণ পরীক্ষা করা হয়। যদি গ্রহে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বা অন্য কোনো গ্রীনহাউস গ্যাস থাকে, তবে তা আলোর স্পেকট্রামে ধরা পড়ে।

তদন্তে জানা গেছে, সপ্তগ্রহগুলো প্রাথমিকভাবে নক্ষত্রের প্রাথমিক প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক থেকে তৈরি হয়েছিল। এই ঘন গ্যাস ও বরফের চাকতি থেকে পৃথিবীর মতো সাতটি গ্রহ উদ্ভূত হয়ে নক্ষত্রের ‘গোল্ডিলক্‌স জোন’-এ চলে এসেছে, যা প্রাণের জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম।

এছাড়া, বিজ্ঞানীরা ‘আলফা সেনটওরি’ নক্ষত্রমণ্ডলের মতো আমাদের কাছাকাছি গ্রহেও প্রাণের সম্ভাবনা দেখছেন। আলফা সেনটওরি থেকে মাত্র ৪.৩৭ আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই নক্ষত্রমণ্ডলে তিনটি নক্ষত্র আছে—আলফা সেনটওরি এ, আলফা সেনটওরি বি এবং প্রক্সিমা সেনটওরি। এর মধ্যে ‘আলফা সেনটওরি এবি’ গ্রহে জল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বিষয়টি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।ৃ

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের দূরবর্তী গ্রহগুলোতে প্রাণের সম্ভাব্য অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া আমাদের সৌরজগতের বাইরের জীবনের অনুসন্ধানে নতুন দিক উন্মোচন করছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

সৌরজগতের কাছেই পাওয়া যেতে পারে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ

সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর মধ্যে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধান করে বিজ্ঞানীরা নতুনভাবে আশার আলো পেয়েছেন। ২০১৭ সালে একটি দূরবর্তী নক্ষত্রমণ্ডল আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা আমাদের সৌরজগতের মতোই সাতটি পাথুরে গ্রহকে প্রদক্ষিণ করছে। এই নক্ষত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্র্যাপিস্ট-১’।

পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্রের তিনটি গ্রহ বিশেষভাবে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রথম দুটি গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা কম হলেও, তৃতীয় গ্রহটি—‘ট্র্যাপিস্ট-১ই’ বা প্ল্যানেট ই—প্রাণের জন্য উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। গ্রহটি তার নক্ষত্রকে ৪ থেকে ৭৩ দিনের মধ্যে প্রদক্ষিণ করে, যার কারণে পর্যাপ্ত তাপমাত্রা বজায় থাকে এবং জল তরল অবস্থায় থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, জন্মলগ্নে এই গ্রহে হাইড্রোজেন-সমৃদ্ধ ঘন বায়ুমণ্ডল থাকলেও নক্ষত্রের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এটিকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করেছে। তবে আশার কথা হলো, প্ল্যানেট ই-তে গৌণ বায়ুমণ্ডল থাকতে পারে, যেখানে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাসের উপস্থিতি সম্ভাব্য।

আরও পড়ুন : বাংলাদেশকে দেখে পাকিস্তানকে শেখার পরামর্শ কামরান আকমলের

‘জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ’-এর পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ট্রান্সমিশন স্পেকট্রোস্কোপি পদ্ধতির মাধ্যমে এই গ্রহে বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্বের প্রাথমিক ইঙ্গিত পেয়েছেন। এই পদ্ধতিতে গ্রহের বায়ুমণ্ডল থেকে আলোর বিকিরণ পরীক্ষা করা হয়। যদি গ্রহে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বা অন্য কোনো গ্রীনহাউস গ্যাস থাকে, তবে তা আলোর স্পেকট্রামে ধরা পড়ে।

তদন্তে জানা গেছে, সপ্তগ্রহগুলো প্রাথমিকভাবে নক্ষত্রের প্রাথমিক প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক থেকে তৈরি হয়েছিল। এই ঘন গ্যাস ও বরফের চাকতি থেকে পৃথিবীর মতো সাতটি গ্রহ উদ্ভূত হয়ে নক্ষত্রের ‘গোল্ডিলক্‌স জোন’-এ চলে এসেছে, যা প্রাণের জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম।

এছাড়া, বিজ্ঞানীরা ‘আলফা সেনটওরি’ নক্ষত্রমণ্ডলের মতো আমাদের কাছাকাছি গ্রহেও প্রাণের সম্ভাবনা দেখছেন। আলফা সেনটওরি থেকে মাত্র ৪.৩৭ আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই নক্ষত্রমণ্ডলে তিনটি নক্ষত্র আছে—আলফা সেনটওরি এ, আলফা সেনটওরি বি এবং প্রক্সিমা সেনটওরি। এর মধ্যে ‘আলফা সেনটওরি এবি’ গ্রহে জল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বিষয়টি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।ৃ

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের দূরবর্তী গ্রহগুলোতে প্রাণের সম্ভাব্য অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া আমাদের সৌরজগতের বাইরের জীবনের অনুসন্ধানে নতুন দিক উন্মোচন করছে।