০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের তদন্ত: জুলাই আন্দোলনে ক্যাডার বাহিনী গঠন করে স্বপ্না আক্তার

জুলাই আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্রজনতাকে নির্বিচারে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজধানীর মিরপুর ও মাটিকাটা এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় ক্যাডার বাহিনী। সশস্ত্র এসব বাহিনীর হামলায় প্রাণ দেন অসংখ্য মানুষ। আর এসব ক্যাডার বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে অন্যতম ঢাকা মহানগর উত্তরের ভাষানটেক ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি স্বপ্না আক্তার।

এই স্বপ্নার বিরুদ্ধে সম্প্রতি জুলাই আন্দোলনে মিরপুর মডেল থানা এলাকায় মো. মিরাজ নামের এক সবজি বিক্রেতাকে গুলি করে হত্যা চেষ্টায় জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বপ্না আক্তারকে পুনঃ গ্রেফতারের আবেদন করেছেন মিরপুর মডেল থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর জুলাই আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলার আসামি স্বপ্না আক্তারকে আটক করে যৌথ বাহিনী। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মাটিকাটা এলাকার ৫৯৭ নম্বর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে স্বপ্নাকে গুলশান থানা পুলিশে হস্তান্তর করলে গুলশান থানার একটি জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলার ৬২ নম্বর এজাহার-নামীয় আসামি স্বপ্না (মামলা নম্বর-২৮)। এরপর থেকে কারাগারে আছেন আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেত্রী।

এদিকে মিরপুর মডেল থানার হত্যা চেষ্টা মামলায় পুনঃ গ্রেফতার চেয়ে আদালতের কাছে করা আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মামুন উল্লেখ করেছেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত ও গোপন বিশ্বস্ত সোর্সসহ ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় স্বপ্না আক্তার মামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:মাদক সম্রাজ্ঞী আওয়ামী লীগ নেত্রী স্বপ্না আক্তার আটক

আসামী মিরপুর থানাধীন (১৫ নং ওয়ার্ড, ভাষানটেক, মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর ঢাকা) বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তিনি বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র সমাবেশে ছাত্র-জনতাকে নিপীড়নে ক্যাডার বাহিনীকে উৎসাহিত করাসহ নিজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে গোপন সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামী স্বপ্না আক্তারকে অত্র মামলায় পুনঃ গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। আসামীকে অত্র মামলায় পুনঃ গ্রেফতার দেখানো হলে পরবর্তীতে উক্ত আসামীর পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আদালতে পুনঃ গ্রেফতারের আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য হলেও স্বপ্না আক্তার হাজির হয়নি। আবারও কোর্টে শুনানির তারিখ ধার্য হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পরও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতেন স্বপ্না। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় সে মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে বহুল পরিচিত। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে অবৈধ পথে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় জুলাই হত্যা মামলা (মামলা নং ২৮, তারিখ: ২৫-০৪-২০২৫ খ্রিঃ), মিরপুর মডেল থানায় (মামলা নং: ৪৫/৪৫, তারিখ: ২৫-০১-২০২৫), পল্লবী থানায় (মামলা নং: ১৪৬/২০২৫ সিআর, তারিখ: ১০-০১-২০২৫খ্রিঃ), পল্টন থানায় (মামলা নং: সিআর ৭০৪/২০২৫খ্রি),
উত্তরা পশ্চিম থানা (সিআর মামলা নং ৮৬০/২০২৫, তারিখ: ২২-০২-২০২৫খ্রিঃ) , ক্যান্টনমেন্ট থানা (মামলা নং :০৩, তারিখ: ২০-০৫-২০২০), ক্যান্টনমেন্ট থানা মাদক মামলা (মামলা নং: ০৬, তারিখ: ০৬-১১-২০১৯খ্রি:) রয়েছে।

এছাড়া কুমিল্লার দেবীদ্বারের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে পরিচিত এই স্বপ্না আক্তার। রাজধানীর মাটিকাটা এলাকায় ফখরুলের সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ফখরুলের মালিকানাধীন জায়গায় একটি হোটেলও বানিয়েছে স্বপ্না।

গত ১৬ বছরে ফখরুলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে লেডি ডন হয়ে ওঠে স্বপ্না আক্তার। জমি দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে মাটিকাটা এলাকায় স্বপ্নার আছে নিজস্ব অস্ত্রধারী গ্যাং।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

পুলিশের তদন্ত: জুলাই আন্দোলনে ক্যাডার বাহিনী গঠন করে স্বপ্না আক্তার

সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জুলাই আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্রজনতাকে নির্বিচারে হত্যার উদ্দেশ্যে রাজধানীর মিরপুর ও মাটিকাটা এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় ক্যাডার বাহিনী। সশস্ত্র এসব বাহিনীর হামলায় প্রাণ দেন অসংখ্য মানুষ। আর এসব ক্যাডার বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে অন্যতম ঢাকা মহানগর উত্তরের ভাষানটেক ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি স্বপ্না আক্তার।

এই স্বপ্নার বিরুদ্ধে সম্প্রতি জুলাই আন্দোলনে মিরপুর মডেল থানা এলাকায় মো. মিরাজ নামের এক সবজি বিক্রেতাকে গুলি করে হত্যা চেষ্টায় জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বপ্না আক্তারকে পুনঃ গ্রেফতারের আবেদন করেছেন মিরপুর মডেল থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর জুলাই আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলার আসামি স্বপ্না আক্তারকে আটক করে যৌথ বাহিনী। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মাটিকাটা এলাকার ৫৯৭ নম্বর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে স্বপ্নাকে গুলশান থানা পুলিশে হস্তান্তর করলে গুলশান থানার একটি জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলার ৬২ নম্বর এজাহার-নামীয় আসামি স্বপ্না (মামলা নম্বর-২৮)। এরপর থেকে কারাগারে আছেন আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেত্রী।

এদিকে মিরপুর মডেল থানার হত্যা চেষ্টা মামলায় পুনঃ গ্রেফতার চেয়ে আদালতের কাছে করা আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মামুন উল্লেখ করেছেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত ও গোপন বিশ্বস্ত সোর্সসহ ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় স্বপ্না আক্তার মামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:মাদক সম্রাজ্ঞী আওয়ামী লীগ নেত্রী স্বপ্না আক্তার আটক

আসামী মিরপুর থানাধীন (১৫ নং ওয়ার্ড, ভাষানটেক, মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর ঢাকা) বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তিনি বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র সমাবেশে ছাত্র-জনতাকে নিপীড়নে ক্যাডার বাহিনীকে উৎসাহিত করাসহ নিজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে গোপন সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামী স্বপ্না আক্তারকে অত্র মামলায় পুনঃ গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। আসামীকে অত্র মামলায় পুনঃ গ্রেফতার দেখানো হলে পরবর্তীতে উক্ত আসামীর পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আদালতে পুনঃ গ্রেফতারের আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য হলেও স্বপ্না আক্তার হাজির হয়নি। আবারও কোর্টে শুনানির তারিখ ধার্য হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পরও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতেন স্বপ্না। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় সে মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে বহুল পরিচিত। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে অবৈধ পথে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় জুলাই হত্যা মামলা (মামলা নং ২৮, তারিখ: ২৫-০৪-২০২৫ খ্রিঃ), মিরপুর মডেল থানায় (মামলা নং: ৪৫/৪৫, তারিখ: ২৫-০১-২০২৫), পল্লবী থানায় (মামলা নং: ১৪৬/২০২৫ সিআর, তারিখ: ১০-০১-২০২৫খ্রিঃ), পল্টন থানায় (মামলা নং: সিআর ৭০৪/২০২৫খ্রি),
উত্তরা পশ্চিম থানা (সিআর মামলা নং ৮৬০/২০২৫, তারিখ: ২২-০২-২০২৫খ্রিঃ) , ক্যান্টনমেন্ট থানা (মামলা নং :০৩, তারিখ: ২০-০৫-২০২০), ক্যান্টনমেন্ট থানা মাদক মামলা (মামলা নং: ০৬, তারিখ: ০৬-১১-২০১৯খ্রি:) রয়েছে।

এছাড়া কুমিল্লার দেবীদ্বারের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে পরিচিত এই স্বপ্না আক্তার। রাজধানীর মাটিকাটা এলাকায় ফখরুলের সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ফখরুলের মালিকানাধীন জায়গায় একটি হোটেলও বানিয়েছে স্বপ্না।

গত ১৬ বছরে ফখরুলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে লেডি ডন হয়ে ওঠে স্বপ্না আক্তার। জমি দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে মাটিকাটা এলাকায় স্বপ্নার আছে নিজস্ব অস্ত্রধারী গ্যাং।