০১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আজই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে যুক্তরাজ্য

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 85

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার রবিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতিতে এটি এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্টারমার এর আগে জুলাইয়ে সতর্ক করেছিলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইসরায়েল যদি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করে, তবে লন্ডন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। তিনি বলেছিলেন, “দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এখন হুমকির মুখে। তাই এটাই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।”

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুর্ভিক্ষ ও সহিংসতার চিত্রকে প্রধানমন্ত্রী “অসহনীয়” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। জাতিসংঘের এক কমিশন সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে, যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ “বিকৃত ও মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর আগেই বলেছিলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত “সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করার শামিল।” জিম্মি পরিবারের সদস্যরাও স্টারমারের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন, অন্তত অবশিষ্ট ৪৮ জিম্মিকে মুক্ত করার আগ পর্যন্ত স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে।

আরও পড়ুন : ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্র থাকবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে

ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনকও দ্য টেলিগ্রাফে লিখেছেন, “এ মুহূর্তে স্বীকৃতি দেওয়া সন্ত্রাসবাদের জন্য পুরস্কারস্বরূপ।”

ব্রিটিশ মন্ত্রীরা বলছেন, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে। বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, “পশ্চিম তীরে যে নির্মাণ প্রকল্প চালু হচ্ছে, বিশেষ করে বিতর্কিত ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্প, তা কার্যত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের টিকে থাকার সম্ভাবনাকে শেষ করে দিচ্ছে।”

সরকার জোর দিয়ে বলছে, হামাসকে তারা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেই দেখছে এবং ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় এ সংগঠনের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে লন্ডন সফরে এসে স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস লন্ডনে স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। গত বছর স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে এ পদক্ষেপ নেয়। সম্প্রতি পর্তুগাল, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও একই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অভূতপূর্ব হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সেনারা গাজায় ব্যাপক হামলা চালায়। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৬৪ হাজার ৯৬৪ জন নিহত হয়েছে।

রবিবারের ঘোষণা কার্যকর হলে, যুক্তরাজ্য হবে পশ্চিমা পরাশক্তিদের মধ্যে অন্যতম দেশ যারা যুদ্ধ চলাকালেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে—যা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার গতিপথে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আজই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে যুক্তরাজ্য

সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার রবিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতিতে এটি এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্টারমার এর আগে জুলাইয়ে সতর্ক করেছিলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইসরায়েল যদি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ না করে, তবে লন্ডন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। তিনি বলেছিলেন, “দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এখন হুমকির মুখে। তাই এটাই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।”

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুর্ভিক্ষ ও সহিংসতার চিত্রকে প্রধানমন্ত্রী “অসহনীয়” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। জাতিসংঘের এক কমিশন সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে, যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ “বিকৃত ও মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর আগেই বলেছিলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত “সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করার শামিল।” জিম্মি পরিবারের সদস্যরাও স্টারমারের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন, অন্তত অবশিষ্ট ৪৮ জিম্মিকে মুক্ত করার আগ পর্যন্ত স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে।

আরও পড়ুন : ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্র থাকবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে

ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনকও দ্য টেলিগ্রাফে লিখেছেন, “এ মুহূর্তে স্বীকৃতি দেওয়া সন্ত্রাসবাদের জন্য পুরস্কারস্বরূপ।”

ব্রিটিশ মন্ত্রীরা বলছেন, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে। বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, “পশ্চিম তীরে যে নির্মাণ প্রকল্প চালু হচ্ছে, বিশেষ করে বিতর্কিত ‘ই-ওয়ান’ প্রকল্প, তা কার্যত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের টিকে থাকার সম্ভাবনাকে শেষ করে দিচ্ছে।”

সরকার জোর দিয়ে বলছে, হামাসকে তারা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেই দেখছে এবং ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় এ সংগঠনের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে লন্ডন সফরে এসে স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস লন্ডনে স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। গত বছর স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে এ পদক্ষেপ নেয়। সম্প্রতি পর্তুগাল, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও একই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অভূতপূর্ব হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সেনারা গাজায় ব্যাপক হামলা চালায়। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৬৪ হাজার ৯৬৪ জন নিহত হয়েছে।

রবিবারের ঘোষণা কার্যকর হলে, যুক্তরাজ্য হবে পশ্চিমা পরাশক্তিদের মধ্যে অন্যতম দেশ যারা যুদ্ধ চলাকালেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে—যা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার গতিপথে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।