মাতৃত্বের স্মৃতি ধরে রাখতে আপনি কী কী করতে পারেন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুজতে হয়তো ভাবতে ভাবতে দিন পার হবে অনেকেরই। তবে এই মা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মোটেও সময় নষ্ট করেননি । তিনি এমন কিছু করেছেন যা শুনলে অনেকেরই চোখ উঠবে কপালে। নিজের বুকের দুধ দিয়ে অলংকার তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববাসীকে।
শুনতেই যেন অবিশ্বাস্য! কিন্তু বাস্তবে এটিই এখন নতুন ট্রেন্ড, যা মাতৃত্বের মধুর স্মৃতিকে চিরকাল ধরে রাখার এ যেন এক অভিনব উপায়।
জার্মানির নিডেনভোরেন শহরের শিল্পী মার্শা ওয়ার্টম্যান করেছেন এমন শিল্পকর্ম। তিনি নিজের বুকের দুধকে রেখে দিচ্ছেন গহনার আকারে, যেন মাতৃত্বের সেই মধুর মুহূর্তগুলো চিরস্থায়ী হয়।
এই্ শিল্পী নিজেই একদিন এমন গহনা বানানোর কথা ভেবেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বুকের দুধ দিয়ে তৈরি একখানা গহনা অর্ডার করেছিলেন নিজের মেয়ের জন্য। তবে, সেই গহনা দেখে মনে হলো এটা তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাই তিনি নিজেই ভাবলেন, একটা নতুন পদ্ধতি খুঁজে বের করবেন।
মার্শা জানালেন, কয়েক মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অবশেষে তিনি সঠিক পদ্ধতি বের করলেন, যাতে গহনাগুলো আরও সুন্দর দেখায়। প্রথমে তিনি তার পরিচিতদের মধ্যে এই গহনা তৈরি করে দেখিয়েছিলেন। এরপর ফেসবুকে কিছু ছবি পোস্ট করার পর, সেই ছোট্ট আইডিয়াটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো। মার্শার কথায়, ছোট্ট চিন্তা থেকেই বড় হয়ে ওঠে অনেক উদ্যোগ। এটাই তাঁর সঙ্গে ঘটেছে।
আরও পড়ুন : বিশ্বের বৃহত্তম মাটির মসজিদ সম্পর্কে জেনে নিন
গহনাগুলো দেখতে একেবারে সাধারণ অলঙ্কারের মতো। কেউই বুঝতে পারবে না এগুলো বুকের দুধ থেকে তৈরি! মার্শা বলেন, ‘যত্ন করে সংরক্ষণ করা হলে, এই গহনা বছরের পর বছর টিকে থাকতে পারে। অনেক মা বিশ্বাস করেন, তাদের সন্তান যখন বড় হবে, তখন এটা তার জন্য একটা সুন্দর উপহার হবে।’
মার্শার মতে, এই চমৎকার ভাবনার পেছনে আছে মা ও সন্তানের সম্পর্কের এক মধুর স্মৃতি ধরে রাখার ইচ্ছা। বুকের দুধ, যা সন্তানের জীবনের প্রথম দিনগুলোতে মায়ের স্নেহের সেরা প্রতীক, তা এখন রূপ নিচ্ছে চিরস্থায়ী সৌন্দর্যের প্রতীকে। এ ধরনের গহনা প্রতিদিন পরা যায়, আর তার বাহ্যিক চেহারার কারণে কেউই বোঝে না এটা বুকের দুধ দিয়ে তৈরি!
এই নতুন ধারা এখন শুধু নিডেনভোরেনের শহরেই সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বে। মাতৃত্বের স্মৃতিকে গহনার আকারে ধরে রাখতে এমন ব্যতিক্রমী আইডিয়া বহু মায়ের মনে জায়গা করে নিচ্ছে।
ঢাকা ডেস্ক 













