১০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শেখ হাসিনাসহ দায়ীদের বিচারের দাবি নাহিদের

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 119

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের সাক্ষ্য শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, আন্দোলন দমনে সমন্বয়কদের নানা সময়ে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। “আয়নাঘরে আটকে রেখে আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছিল”—এমন অভিযোগও পুনরায় তুলে ধরেন তিনি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ মন্তব্য করেন, আন্দোলনের সময় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নেওয়া গণমাধ্যম থাকলেও পরবর্তী সময়ে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি।

আরও পড়ুন : আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

এর আগে টানা দুই দিন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন নাহিদ ইসলাম। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের জবানবন্দিতে নাহিদ অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের “রাজাকারের বংশধর” আখ্যা দিয়ে কোটাপ্রথার পক্ষে অবস্থান নেন। তার মতে, এই বক্তব্য আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তিনি আরও জানান, ওই মন্তব্য শিক্ষার্থীদের অপমানিত করেছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়।

নাহিদের সাক্ষ্যে উঠে আসে, ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে আন্দোলন ঠেকানোর দায়িত্ব দেন। পরদিন, ১৬ জুলাই দেশজুড়ে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদসহ সাতজন নিহত হন।

এরপর ১৭ জুলাই রাতে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। তিনি দাবি করেন, পরবর্তী দিনগুলোতে নির্বিচার গুলি, গ্রেপ্তার ও ইন্টারনেট বন্ধের কারণে আন্দোলনকারীরা চরম দমনের শিকার হন।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

শেখ হাসিনাসহ দায়ীদের বিচারের দাবি নাহিদের

সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের সাক্ষ্য শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, আন্দোলন দমনে সমন্বয়কদের নানা সময়ে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। “আয়নাঘরে আটকে রেখে আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছিল”—এমন অভিযোগও পুনরায় তুলে ধরেন তিনি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ মন্তব্য করেন, আন্দোলনের সময় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নেওয়া গণমাধ্যম থাকলেও পরবর্তী সময়ে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি।

আরও পড়ুন : আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

এর আগে টানা দুই দিন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন নাহিদ ইসলাম। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের জবানবন্দিতে নাহিদ অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের “রাজাকারের বংশধর” আখ্যা দিয়ে কোটাপ্রথার পক্ষে অবস্থান নেন। তার মতে, এই বক্তব্য আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তিনি আরও জানান, ওই মন্তব্য শিক্ষার্থীদের অপমানিত করেছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়।

নাহিদের সাক্ষ্যে উঠে আসে, ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে আন্দোলন ঠেকানোর দায়িত্ব দেন। পরদিন, ১৬ জুলাই দেশজুড়ে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদসহ সাতজন নিহত হন।

এরপর ১৭ জুলাই রাতে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। তিনি দাবি করেন, পরবর্তী দিনগুলোতে নির্বিচার গুলি, গ্রেপ্তার ও ইন্টারনেট বন্ধের কারণে আন্দোলনকারীরা চরম দমনের শিকার হন।