১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

চেরি চাষে চীনা কৃষকদের আয় মৌসুমে ৪ কোটি টাকা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 140

চেরি ফল। ছবি : পিক্সাবে

শানসি প্রদেশের ইউনচেং শহর চীনের উত্তরের সবচেয়ে বড় চেরি চাষের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। মৌসুমে পুরো শহর যেন চেরির লাল রঙে রঙিন হয়ে যায়। গাছের শাখায় শাখায় ঝুলতে থাকে উজ্জ্বল লাল চেরি, গ্রীষ্মের সূর্যের আলোয় যেন সে রঙ আর উজ্জ্বল হয়! আর চেরির ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে।

এ সময় শুধু স্থানীয় চাষিরাই নয়, সারা দেশের ক্রেতা আর ব্যবসায়ীরাও ভিড় জমায় এই বাজারে। প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার কেজি চেরি। যা শুধু স্বাদে নয়, চেরির আয়ে হাসি ফুটে চাষিদের মুখে। প্রতি মৌসুমে চেরি থেকে আয় হয় প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা।

মে মাসের শুরু থেকেই এখানে শুরু হয় বছরের অন্যতম বড় চেরি সংগ্রহের মৌসুম। সকালে সূর্য ওঠার পরপরই, ফলচাষিরা বাগানে ছুটে যান, হাতে হাতে তুলে নেন রসালো লাল চেরি। কাজটাও বেশ যত্নের। শ্রমিকরা ধীরে ধীরে চেরি বাছাই করেন, তারপর সেগুলো যত্ন সহকারে প্যাকেটবন্দী করে পাঠান বাজারে ।

শুধু চাষিরা নয়, মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে চেরি চাষের মাঠে কাজ করেন প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশজন শ্রমিক। চেরির চাষ আর বেচাকেনা নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিন কাটান এখানকার কৃষক ও ফল ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় লাখ টাকার চেরি। বিভিন্ন প্রজাতি ভেদে এর স্বাদও ভিন্ন হয়, ফলে অনেকেরই পছন্দের শীর্ষে এই ফল।

 

 

আরও পড়ুন : অসময়ে রুমার বাগানে ঝুলছে বড় বড় আম

 

চেরি চাষিদের জন্য এ মওসুম আয়ের দিক থেকে অত্যন্ত লাভজনক। প্রতিটি খামারে চেরির পরিমাণ এবং উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করে, কিছু চাষিরা জানান পুরো মওসুমে তাদের ফার্ম থেকে বাজারজাত করা হয় প্রায় এক লাখ কেজি চেরি। যার মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ ইউয়ান বা প্রায় ৪ কোটি টাকা। শ্রমিক এবং সরবরাহের খরচ বাদ দিয়েও চেরি চাষ অত্যন্ত লাভজনক হিসেবে বিবেচিত।

চেরি মৌসুমকে কেন্দ্র করে উত্তরের অর্থনীতিতেও রাখে বিশাল অবদান। এই অঞ্চলের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে চেরি চাষ। কৃষকদের জন্য এই চেরি মৌসুমটি শুধুমাত্র ফল সংগ্রহের নয়, এটি তাদের পরিবারের আয়ের মূল উৎস। এই চেরির মওসুম যেন এক ধরনের উৎসব, যা শুধু চাষি বা ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, সারা চীনের ফলপ্রেমীদের জন্যও এক বড় আকর্ষণ।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

চেরি চাষে চীনা কৃষকদের আয় মৌসুমে ৪ কোটি টাকা

সর্বশেষ আপডেট : ০৮:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শানসি প্রদেশের ইউনচেং শহর চীনের উত্তরের সবচেয়ে বড় চেরি চাষের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। মৌসুমে পুরো শহর যেন চেরির লাল রঙে রঙিন হয়ে যায়। গাছের শাখায় শাখায় ঝুলতে থাকে উজ্জ্বল লাল চেরি, গ্রীষ্মের সূর্যের আলোয় যেন সে রঙ আর উজ্জ্বল হয়! আর চেরির ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে।

এ সময় শুধু স্থানীয় চাষিরাই নয়, সারা দেশের ক্রেতা আর ব্যবসায়ীরাও ভিড় জমায় এই বাজারে। প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার কেজি চেরি। যা শুধু স্বাদে নয়, চেরির আয়ে হাসি ফুটে চাষিদের মুখে। প্রতি মৌসুমে চেরি থেকে আয় হয় প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা।

মে মাসের শুরু থেকেই এখানে শুরু হয় বছরের অন্যতম বড় চেরি সংগ্রহের মৌসুম। সকালে সূর্য ওঠার পরপরই, ফলচাষিরা বাগানে ছুটে যান, হাতে হাতে তুলে নেন রসালো লাল চেরি। কাজটাও বেশ যত্নের। শ্রমিকরা ধীরে ধীরে চেরি বাছাই করেন, তারপর সেগুলো যত্ন সহকারে প্যাকেটবন্দী করে পাঠান বাজারে ।

শুধু চাষিরা নয়, মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে চেরি চাষের মাঠে কাজ করেন প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশজন শ্রমিক। চেরির চাষ আর বেচাকেনা নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিন কাটান এখানকার কৃষক ও ফল ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় লাখ টাকার চেরি। বিভিন্ন প্রজাতি ভেদে এর স্বাদও ভিন্ন হয়, ফলে অনেকেরই পছন্দের শীর্ষে এই ফল।

 

 

আরও পড়ুন : অসময়ে রুমার বাগানে ঝুলছে বড় বড় আম

 

চেরি চাষিদের জন্য এ মওসুম আয়ের দিক থেকে অত্যন্ত লাভজনক। প্রতিটি খামারে চেরির পরিমাণ এবং উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করে, কিছু চাষিরা জানান পুরো মওসুমে তাদের ফার্ম থেকে বাজারজাত করা হয় প্রায় এক লাখ কেজি চেরি। যার মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ ইউয়ান বা প্রায় ৪ কোটি টাকা। শ্রমিক এবং সরবরাহের খরচ বাদ দিয়েও চেরি চাষ অত্যন্ত লাভজনক হিসেবে বিবেচিত।

চেরি মৌসুমকে কেন্দ্র করে উত্তরের অর্থনীতিতেও রাখে বিশাল অবদান। এই অঞ্চলের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে চেরি চাষ। কৃষকদের জন্য এই চেরি মৌসুমটি শুধুমাত্র ফল সংগ্রহের নয়, এটি তাদের পরিবারের আয়ের মূল উৎস। এই চেরির মওসুম যেন এক ধরনের উৎসব, যা শুধু চাষি বা ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, সারা চীনের ফলপ্রেমীদের জন্যও এক বড় আকর্ষণ।