ভারতের আসামের শিলচরে অবস্থিত নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি)–তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। ১২ সেপ্টেম্বর হোস্টেল থেকে তাদের বের করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে, দ্রুতই তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
এনআইটি সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন বাংলাদেশি ছাত্র মাদকাসক্ত অবস্থায় তাদেরই দেশের চূড়ান্ত বর্ষের সহপাঠীদের ওপর লোহার রড, ছুরি ও স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে হামলা চালায়। এতে অন্তত দুজন গুরুতর আহত হন এবং তাদের শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে নিজেদের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে। পরে সিনিয়ররা হস্তক্ষেপ করলে তাদের আলোচনার কথা বলে একটি ক্লাসরুমে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে আলো নিভিয়ে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়।
ঘটনার পরপরই এনআইটি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে অভিযুক্ত পাঁচজনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাদের দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এনআইটির পরিচালক অধ্যাপক দিলীপ কুমার বৈদ্য জানান, “আমাদের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে যে এই পাঁচজন শিক্ষার্থী সরাসরি সহিংসতায় জড়িত ছিল। তাই তাদের ক্যাম্পাস থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং যেহেতু ক্লাসে অংশ নিতে পারবে না, তাই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।”
কর্তৃপক্ষের তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের একজনের কক্ষে মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে এবং আরেকজনের কক্ষ থেকে লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি।
‘স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার’-এর ডিন এস.এস. ধর জানান, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কমিটি ঘটনাটি আরও বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে গুয়াহাটির আইসিসিআর কর্মকর্তাও ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপকে যথাযথ বলে মত দেন।
ঢাকা ডেস্ক 









