০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

নেপালে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 105

নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে জেন-জিদের বিক্ষোভ রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়। এতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর অবশেষে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সরকার। সোমবার গভীর রাতে জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

গত সপ্তাহে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ মোট ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেয় নেপালি কর্তৃপক্ষ। সরকারের দাবি ছিল—ভুয়া খবর, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু কোটি কোটি ব্যবহারকারীসহ তরুণ সমাজ এটিকে কর্তৃত্ববাদী আচরণ হিসেবে দেখেন।

সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে হাজারো তরুণ পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুধু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, তারা দুর্নীতি দমনের দাবিও জানান। “Enough is enough” ও “End to corruption” লেখা স্লোগানমুখর প্ল্যাকার্ড হাতে অনেকেই রাস্তায় নামেন।

আরও পড়ুন : নেপালে জেন-জিদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ১৬

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত ১৯ জন, আহত হন আরও একশ’র বেশি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাঠমান্ডুর বাইরের কয়েকটি শহরেও। এমনকি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি’র নিজ শহর দামাকে তার বাড়ির সামনে পাথরও ছোড়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী অলি হতাহতদের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ’ পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছে। সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং নিহত-আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দিয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের চাপ ও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। তবে বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি দুর্নীতি দমন—সেটি পূরণে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা-ই এখন সবার নজরে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

নেপালে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে জেন-জিদের বিক্ষোভ রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়। এতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পর অবশেষে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সরকার। সোমবার গভীর রাতে জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

গত সপ্তাহে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ মোট ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেয় নেপালি কর্তৃপক্ষ। সরকারের দাবি ছিল—ভুয়া খবর, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু কোটি কোটি ব্যবহারকারীসহ তরুণ সমাজ এটিকে কর্তৃত্ববাদী আচরণ হিসেবে দেখেন।

সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে হাজারো তরুণ পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুধু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, তারা দুর্নীতি দমনের দাবিও জানান। “Enough is enough” ও “End to corruption” লেখা স্লোগানমুখর প্ল্যাকার্ড হাতে অনেকেই রাস্তায় নামেন।

আরও পড়ুন : নেপালে জেন-জিদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ১৬

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত ১৯ জন, আহত হন আরও একশ’র বেশি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাঠমান্ডুর বাইরের কয়েকটি শহরেও। এমনকি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি’র নিজ শহর দামাকে তার বাড়ির সামনে পাথরও ছোড়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী অলি হতাহতদের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ’ পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছে। সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং নিহত-আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দিয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের চাপ ও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। তবে বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি দুর্নীতি দমন—সেটি পূরণে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা-ই এখন সবার নজরে।