নেপালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে তরুণদের বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৬ জনে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র শেখর খানাল জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। এদিকে সিভিল সার্ভিস হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারসহ কয়েকটি হাসপাতালে একসঙ্গে এত রোগী আসায় চিকিৎসা সেবায় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অনেককে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজারাম বাসনেত জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী জেলা নিরাপত্তা কমিটির সুপারিশে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : নেপালে জেন-জিদের বিক্ষোভে সহিংসতা, কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি
বিক্ষোভকারীরা নিউ বানেশ্বরের সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে আজকের নির্ধারিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে।
নেপালের যোগাযোগমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”
সম্প্রতি নেপাল সরকার ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের ঘোষণা দেয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জেড (জেন জি) রাস্তায় নেমে আসে। সোমবার সকালে সংসদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ দিয়ে শুরু হলেও দ্রুতই তা সংঘর্ষে পরিণত হয়।
সিভিল সার্ভিস হাসপাতালের পরিচালক ডা. দীপক পাউডেল জানিয়েছেন, কেবল তাদের হাসপাতালেই একশ’র বেশি আহতকে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকেই রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঢাকা ডেস্ক 









