১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

হাত-পা বেঁধে এনজিও কর্মকর্তাকে নির্যাতন, জড়িত মা-ছেলে আটক

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 104

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক এনজিও কর্মকর্তা। তাকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর, নগ্ন করে ভিডিও ধারণ এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি অনুপমা সূত্রধর ও তার ছেলে প্রিন্স আদিত্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৪ তারিখে উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন অনুপমা সূত্রধর। পরদিন (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এনজিও কর্মকর্তা রনজিত চন্দ্র বর্মনকে তার বাসায় যেতে বলেন তিনি।

রনজিত চন্দ্র সেখানে পৌঁছালে অনুপমা, তার ছেলে প্রিন্স আদিত্য, স্বামী প্রীতম চন্দ্র সরকার হিরনসহ আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে আটকে ফেলে। এরপর লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন : গাজায় ২ হাজার ৭০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন, ধ্বংস হয়েছে ৯০ শতাংশ অবকাঠামো

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করা হয়। এমনকি পায়ুপথে মরিচগুঁড়া ঢুকিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। প্রাণভয়ে এনজিও কর্মকর্তা স্ত্রীকে ফোন দিয়ে ব্যাংকের চেক বই আনতে বলেন। পরে তার স্বাক্ষরিত চেক পাতা আদায় করে নেয় অভিযুক্তরা।

এদিকে স্বামীকে না পেয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে এএসআই শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এনজিও কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে। এ সময় অনুপমা সূত্রধর ও তার ছেলে প্রিন্স আদিত্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, এনজিও কর্মকর্তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে চাঁদা দাবির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

হাত-পা বেঁধে এনজিও কর্মকর্তাকে নির্যাতন, জড়িত মা-ছেলে আটক

সর্বশেষ আপডেট : ১২:১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক এনজিও কর্মকর্তা। তাকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর, নগ্ন করে ভিডিও ধারণ এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি অনুপমা সূত্রধর ও তার ছেলে প্রিন্স আদিত্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৪ তারিখে উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন অনুপমা সূত্রধর। পরদিন (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এনজিও কর্মকর্তা রনজিত চন্দ্র বর্মনকে তার বাসায় যেতে বলেন তিনি।

রনজিত চন্দ্র সেখানে পৌঁছালে অনুপমা, তার ছেলে প্রিন্স আদিত্য, স্বামী প্রীতম চন্দ্র সরকার হিরনসহ আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে আটকে ফেলে। এরপর লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন : গাজায় ২ হাজার ৭০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন, ধ্বংস হয়েছে ৯০ শতাংশ অবকাঠামো

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করা হয়। এমনকি পায়ুপথে মরিচগুঁড়া ঢুকিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। প্রাণভয়ে এনজিও কর্মকর্তা স্ত্রীকে ফোন দিয়ে ব্যাংকের চেক বই আনতে বলেন। পরে তার স্বাক্ষরিত চেক পাতা আদায় করে নেয় অভিযুক্তরা।

এদিকে স্বামীকে না পেয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে এএসআই শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এনজিও কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে। এ সময় অনুপমা সূত্রধর ও তার ছেলে প্রিন্স আদিত্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান জানান, এনজিও কর্মকর্তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে চাঁদা দাবির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।