গোপালগঞ্জের ঘটনার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষমেষ এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি।
ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যম প্রথম কলকাতাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান দিল্লির জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি গৌতম লাহরি।
তাকে প্রশ্ন করা হয়, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পেইজে ফেসবুক পেইজে খবর রটানো হচ্ছে যে, শেখ হাসিনা ভারত থেকে ফিরবেন। আবার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু হবে। শুধু তাই নয় ভারতীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিককেও বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সাংবাদিককে দিয়েও বাংলাদেশের এই অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করার পেছনে এক ধরনের একটা একটা গুজব প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আসলে এই বিষয়গুলো আপনি কিভাবে দেখছেন?
এই প্রশ্নের জবাবে গৌতম লাহরি বলেন, ‘আমি যেটা জানি বা ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি যে, আমার সঙ্গে তো আওয়ামী লীগ নেতা এবং তাদের অনেকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক সুসম্পর্ক আগেও ছিল এখনো আছে। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গেও আছে। তাদের থেকে আমি যেটা শুনেছি যে, এই গোপালগঞ্জের ঘটনাটি ঘটে সেই ঘটনার পর শেখ হাসিনা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি সেই সময়ে চেয়েছিলেন এমনকি ভারত সরকারকেও জানিয়েছিলেন যে, এবার ফিরতে চান এবং ফিরবেন কারণ তার পক্ষে এটা সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। ভারতীয় এজেন্সির পক্ষ থেকে কোনো মতামত দেওয়া হয়নি।’
আরও পড়ুন : ক্ষমতা শেখ হাসিনাকে শয়তান বানিয়েছিল : বাঁধন
তিনি বলেন, পরবর্তীকালে শুনেছি শেখ হাসিনা পরিবারের পরিবারের লোকেরা তারা বুঝিয়েছেন যে আপনাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে প্রয়োজন আছে। কিন্তু এখন যদি আপনি চলে যান সেখানে আপনি অক্ষত অবস্থায় থাকবেন না। আপনার প্রাণ সংশয় আছে। সে কারণে পরবর্তীকালে বোঝানোর পর সেই প্ল্যানটা আমার মনে হয় তিনি পরিবর্তন করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথম যে পরিকল্পনাটা আমি নিজেও বলেছি অনেক জায়গায় তিনি ফিরতে চাইছেন এবং আগস্ট মাসেই ফিরবেন, এমনও তিনি তখন সেই অবস্থায় সেইরকম ধরনের তার মনোভাবনা ছিল।
‘আর দ্বিতীয় প্রশ্নের পার্ট যে মানে বাংলাদেশ তো এমনিতেই অস্থির হয়ে আছে। নতুন অস্থিরতা কি বা কারা তৈরি করবে? বাংলাদেশ যা অস্থিরতা হয়েছে এর জন্য বাংলাদেশীরাই দায়ী। তারা নিজেদের দেশকে নিজেরা অস্থির করছে। ভারতীয় সাংবাদিকদের দোষ দিয়ে লাভ কি?,’ যোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন : ‘শেখ হাসিনা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী স্বৈরাচার’
ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে এই পরিপ্রেক্ষিতে আপনার অবজারভেশন? এমন প্রশ্নের জবাবে গৌতম লাহরি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভারত সরকার যেটা মনে করে যে একটা দ্রুত নির্বাচন হওয়া দরকার। সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার, বাংলাদেশের মানুষ যাকে পছন্দ করবে তাকে তারা জয়ী করুন। সেই নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারত পুনরায় স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে সরকার তার সঙ্গে একটা কাজ চালানোর সম্পর্ক রয়েছে। কেননা সম্পর্ক রাখতেই হবে প্রতিবেশী নিকটতম দেশ। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কোনো মৌলিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কোনো আলোচনা হওয়া সম্ভব নয়।’
ঢাকা ডেস্ক 









