০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

টিকটকের প্রেমে কিশোর–কিশোরীর দেখা, অতঃপর…

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 122

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে টিকটকে পরিচয় হওয়া এক কিশোর–কিশোরী প্রেমের টানে দেখা করতে গেলে মেয়ের স্বজনেরা তাদের জোরপূর্বক বিয়ে দেন। উভয়ের বয়স মাত্র ১৫ বছর। শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ার নবম শ্রেণির ছাত্রের সঙ্গে পাশের জুড়ী উপজেলার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ের টিকটকে পরিচয় হয়। পরে তা প্রেমে রূপ নেয়। শুক্রবার দুপুরে তারা জুড়ী উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করতে গেলে মেয়ের স্বজনেরা হঠাৎ হাজির হন। এরপর তাদের জোর করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের উপস্থিতিতে ইমাম ডেকে বিয়ে পড়ানো হয়।

ছেলেটির মা অভিযোগ করেন, ছেলে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজ করতে থাকেন। পরে ছেলের এক বন্ধু মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও পাঠালে তিনি জানতে পারেন পুরো ঘটনা। ভিডিওতে দেখা যায়, ছেলেকে জোর করে ধরে নিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন : গরম নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অফিস

এরপর রাতেই ছেলের মা বাদী হয়ে মেয়ের বাবা–মা, স্থানীয় ইউপি সদস্য শরফ উদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন।

জুড়ী থানার ওসি মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, “ভিডিও প্রমাণে স্পষ্ট হয়েছে ছেলেকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা কিশোর–কিশোরীকে উদ্ধার করেছি। আদালতে পাঠানো হবে এবং তাদের জবানবন্দি গ্রহণের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা পলাতক রয়েছে, তবে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

টিকটকের প্রেমে কিশোর–কিশোরীর দেখা, অতঃপর…

সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে টিকটকে পরিচয় হওয়া এক কিশোর–কিশোরী প্রেমের টানে দেখা করতে গেলে মেয়ের স্বজনেরা তাদের জোরপূর্বক বিয়ে দেন। উভয়ের বয়স মাত্র ১৫ বছর। শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়ার নবম শ্রেণির ছাত্রের সঙ্গে পাশের জুড়ী উপজেলার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক মেয়ের টিকটকে পরিচয় হয়। পরে তা প্রেমে রূপ নেয়। শুক্রবার দুপুরে তারা জুড়ী উপজেলা সদরের একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করতে গেলে মেয়ের স্বজনেরা হঠাৎ হাজির হন। এরপর তাদের জোর করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের উপস্থিতিতে ইমাম ডেকে বিয়ে পড়ানো হয়।

ছেলেটির মা অভিযোগ করেন, ছেলে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজ করতে থাকেন। পরে ছেলের এক বন্ধু মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও পাঠালে তিনি জানতে পারেন পুরো ঘটনা। ভিডিওতে দেখা যায়, ছেলেকে জোর করে ধরে নিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন : গরম নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অফিস

এরপর রাতেই ছেলের মা বাদী হয়ে মেয়ের বাবা–মা, স্থানীয় ইউপি সদস্য শরফ উদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন।

জুড়ী থানার ওসি মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, “ভিডিও প্রমাণে স্পষ্ট হয়েছে ছেলেকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা কিশোর–কিশোরীকে উদ্ধার করেছি। আদালতে পাঠানো হবে এবং তাদের জবানবন্দি গ্রহণের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা পলাতক রয়েছে, তবে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।