০৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সুখী হওয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 68

প্রতীকি ছবি

সুখ আপেক্ষিক বিষয়। এক এক জনের কাছে সুখের ব্যাখ্যা এক এক রকম। পছন্দের মানুষের সঙ্গে জীবন কাটানো, পছন্দের কাজ করতে পারা, নতুন চাকরি বা দামি গাড়ি—কোন জিনিসটি যে আমাদের সুখের অনুভূতি দেবে তা বলা মুশকিল।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক লরি স্যান্টোস বলেন, ‘সমস্যার মূল হলো, আমরা ভাবি যে সুখ আসে আমাদের পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে। সুখের এক বড় সমস্যা হলো, আমরা ভালো জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে যাই। যেমন বেতন বাড়লে প্রথমে ভালো লাগে, কিন্তু কিছুদিন পর সেটি আর আনন্দ দেয় না। এটাকে বলে হেডোনিক অ্যাডাপটেশন। সত্যিকারের সুখ অনুভবের জন্য এর সঙ্গে লড়াই করতে হয়।’

সুখের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

লরি স্যান্টোস বলেন, আমাদের মনকে সুখের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে তিনি সাইকোলজি অ্যান্ড দ্য গুড লাইফ নামে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কোর্স চালু করেন। কোর্সটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই কোর্স এখন একটি পডকাস্ট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। এর নাম দ্য সায়েন্স অব ওয়েল বিইং।

স্যান্টোস বলেন, ‘প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, সুখ জেনেটিক বা পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। এই দুটিরই ভূমিকা আছে। তবে আমাদের সুখের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়। এর বাইরে আমাদের জীবনে পরিবর্তন আনার অনেক সুযোগ থাকে।’

যে অভ্যাসগুলো সুখ বাড়ায়—

পরোপকারী কাজ

অন্যের জন্য কিছু করার মাধ্যমেও আমরা সুখ অনুভব করতে পারি।

ভালো মুহূর্ত উপভোগ

দিনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগের চেষ্টা করুন। যেমন একটি শিশুর হাসি বা সকালের এক কাপ গরম কফি। এটি আপনার মনের নেতিবাচক প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে।

সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো

সুখী মানুষেরা সাধারণত বেশি সামাজিক হয়। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা কফি শপে গিয়ে আড্ডা দেওয়াও আমাদের সুখ এনে দেয়।

শরীরচর্চা ও ঘুম

পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

প্রতিদিন আপনি যে জিনিসগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ, সেগুলো লিখে রাখুন। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে জীবন সম্পর্কে আপনার সন্তুষ্টি বাড়ে এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।

 

আরও পড়ুন : ৫২ বছরের নারীর সঙ্গে ২৬ বছরের তরুণের প্রেম, অতঃপর…

 

বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও সুখী থাকা

স্যান্টোস ও হ্যাপিনেস স্টাডিজ একাডেমির সহপ্রতিষ্ঠাতা তাল বেন শাহ স্বীকার করেন, চরম দারিদ্র্যের মতো পরিস্থিতিতে এসব কৌশল কার্যকর না-ও হতে পারে। তবে তাঁরা বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে এই অভ্যাসগুলো মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পর্ক ভালো রাখা, শরীরচর্চা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও পরোপকারী কাজগুলো অর্থবিত্তের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং কঠিন সময়ে এগুলো মানুষকে টিকে থাকতে এবং আরও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।

লরি স্যান্টোসের মতে, সুখ অর্জন করতে হলে কিছু পরিশ্রম করতে হবে। এটা কোনো এককালীন সমাধান নয়, বরং একটি নিয়মিত চর্চা। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি পরিশ্রম করেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত আপনি ভালো অনুভব করবেন।’

সুখ জাদুকরি কিছু নয়। এটি সচেতন প্রচেষ্টা ও নিয়মিত চর্চার ফল। নতুন কিছু পাওয়া সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সুখের জন্য আমাদের মনকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। তবে প্রতিদিনের ছোট ছোট চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা ধীরে ধীরে এক পূর্ণ এবং আনন্দময় জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারি।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

সুখী হওয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সুখ আপেক্ষিক বিষয়। এক এক জনের কাছে সুখের ব্যাখ্যা এক এক রকম। পছন্দের মানুষের সঙ্গে জীবন কাটানো, পছন্দের কাজ করতে পারা, নতুন চাকরি বা দামি গাড়ি—কোন জিনিসটি যে আমাদের সুখের অনুভূতি দেবে তা বলা মুশকিল।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক লরি স্যান্টোস বলেন, ‘সমস্যার মূল হলো, আমরা ভাবি যে সুখ আসে আমাদের পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে। সুখের এক বড় সমস্যা হলো, আমরা ভালো জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে যাই। যেমন বেতন বাড়লে প্রথমে ভালো লাগে, কিন্তু কিছুদিন পর সেটি আর আনন্দ দেয় না। এটাকে বলে হেডোনিক অ্যাডাপটেশন। সত্যিকারের সুখ অনুভবের জন্য এর সঙ্গে লড়াই করতে হয়।’

সুখের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

লরি স্যান্টোস বলেন, আমাদের মনকে সুখের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে তিনি সাইকোলজি অ্যান্ড দ্য গুড লাইফ নামে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কোর্স চালু করেন। কোর্সটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই কোর্স এখন একটি পডকাস্ট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। এর নাম দ্য সায়েন্স অব ওয়েল বিইং।

স্যান্টোস বলেন, ‘প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, সুখ জেনেটিক বা পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। এই দুটিরই ভূমিকা আছে। তবে আমাদের সুখের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়। এর বাইরে আমাদের জীবনে পরিবর্তন আনার অনেক সুযোগ থাকে।’

যে অভ্যাসগুলো সুখ বাড়ায়—

পরোপকারী কাজ

অন্যের জন্য কিছু করার মাধ্যমেও আমরা সুখ অনুভব করতে পারি।

ভালো মুহূর্ত উপভোগ

দিনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগের চেষ্টা করুন। যেমন একটি শিশুর হাসি বা সকালের এক কাপ গরম কফি। এটি আপনার মনের নেতিবাচক প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে।

সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো

সুখী মানুষেরা সাধারণত বেশি সামাজিক হয়। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা কফি শপে গিয়ে আড্ডা দেওয়াও আমাদের সুখ এনে দেয়।

শরীরচর্চা ও ঘুম

পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

প্রতিদিন আপনি যে জিনিসগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ, সেগুলো লিখে রাখুন। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে জীবন সম্পর্কে আপনার সন্তুষ্টি বাড়ে এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।

 

আরও পড়ুন : ৫২ বছরের নারীর সঙ্গে ২৬ বছরের তরুণের প্রেম, অতঃপর…

 

বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও সুখী থাকা

স্যান্টোস ও হ্যাপিনেস স্টাডিজ একাডেমির সহপ্রতিষ্ঠাতা তাল বেন শাহ স্বীকার করেন, চরম দারিদ্র্যের মতো পরিস্থিতিতে এসব কৌশল কার্যকর না-ও হতে পারে। তবে তাঁরা বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে এই অভ্যাসগুলো মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পর্ক ভালো রাখা, শরীরচর্চা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও পরোপকারী কাজগুলো অর্থবিত্তের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং কঠিন সময়ে এগুলো মানুষকে টিকে থাকতে এবং আরও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।

লরি স্যান্টোসের মতে, সুখ অর্জন করতে হলে কিছু পরিশ্রম করতে হবে। এটা কোনো এককালীন সমাধান নয়, বরং একটি নিয়মিত চর্চা। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি পরিশ্রম করেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত আপনি ভালো অনুভব করবেন।’

সুখ জাদুকরি কিছু নয়। এটি সচেতন প্রচেষ্টা ও নিয়মিত চর্চার ফল। নতুন কিছু পাওয়া সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সুখের জন্য আমাদের মনকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। তবে প্রতিদিনের ছোট ছোট চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা ধীরে ধীরে এক পূর্ণ এবং আনন্দময় জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারি।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট