চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের তিন দিন পার হলেও এখনো মামলা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাটহাজারী থানায় এজাহার জমা দিলেও বাদী হিসেবে কোনো ব্যক্তির নাম না থাকায় মামলা রেকর্ড হয়নি।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে প্রক্টরিয়াল বডির নামে একটি এজাহার জমা পড়ে। কিন্তু বাদীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করায় তা গ্রহণ করা যায়নি। পরে এজাহার সংশোধনের অনুরোধ জানানো হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর নতুন করে কোনো এজাহার জমা দেয়নি।
জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাদী হিসেবে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করা হলে মামলা রেকর্ড হয়ে যাবে।‘
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আবদুর রহিম জানান, অভিযুক্তদের তথ্য ও আহতদের মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ চলছে। এসব সম্পন্ন হলে মামলা করা হবে।
আরও পড়ুন : র্যাবের জালে আটক ‘জিনের বাদশা’
গত শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত টানা সংঘর্ষে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। চবি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র অফিসার ডা. ফারহানা ইয়াসমিন জানান, এর মধ্যে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন, যাদের শরীরে গভীর ক্ষত ও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
সংঘর্ষের সময় শিক্ষার্থীদের হাতে রড, পাইপ, লাঠি ও পাথর দেখা যায়। অপরদিকে স্থানীয়দের হাতে ছিল রামদা, রড ও ধারালো অস্ত্র। ইটপাটকেল নিক্ষেপে উপ-উপাচার্যসহ শিক্ষকরা আহত হওয়ার পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত সরে যান।
সংঘর্ষ ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অলিগলিতে আটকে পড়া বহু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
চবির এই সংঘর্ষ ঘিরে শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। ক্যাম্পাস ও আশপাশে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
ঢাকা ডেস্ক 









