০৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বনের গাছ চুরির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক, মামলা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • 120

হামলাকারী বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ও জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদ। ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের চুরি হওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা সমমূল্যের সেগুন গাছের আলামতের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় দুইজন সাংবাদিক। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে বন কর্মকর্তারা।

হামলার শিকার ওই সাংবাদিকরা হলেন- দৈনিক কালবেলার উপজেলার প্রতিনিধি মুজাহিদ মসি ও বাংলা টাইমস পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ত্রিপুরারি দেবনাথ।

অন্যদিকে সাংবাদিকের উপর হামলাকারীরা হলেন- সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ও জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন।

হামলার শিকার সাংবাদিকরা অভিযোগ করে জানান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও তেলমাছড়ায় মাসখানেক আগে ৪টি বড় সেগুন গাছ উদ্যানের ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাচার করেন। যার কাঠের পরিমাণ প্রায় ৬০০ ফুট। যার সম্ভাব্য বাজার দাম ১৮-২০ লাখ টাকা।

কিন্তু গাছ চুরির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বনকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তাদেরই একজন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনা ফাঁস করে দেয়। খবর পেয়ে ওই সাংবাদিকরা শনিবার সরেজমিনে এই ঘটনার আলামত সংগ্রহ ও ভিডিও করতে গেলে বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ও জুনিয়র ওয়াল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদসহ আরো কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। তাদের ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়াসহ শারীরিকভাবে হেনস্ত করেন। পাশাপাশি এই বিষয়ে সংবাদ প্রচার করলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা দায়ের হবে বলেও হুমকি দেন বনের ওই দুই কর্মকর্তা-কর্মচারী।

আরও পড়ুন : রাবি ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিতে রাকসু কার্যালয় ভাঙচুর, কার্যক্রম স্থবির

সাংবাদিক মুজাহিদ মসি ও ত্রিপুরারি দেবনাথ বলেন, প্রতিনিয়ত তারা রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে গাছ পাচার করছে। অনেক আগে থেকেই আমরা এসব নিয়ে লেখালেখি করছি। এতে আমাদের উপর ক্ষোভ রয়েছে। গতকাল সেগুনগাছের কাটা গুঁড়ির ভিডিও ধারণ করতে গেলে আমাদের উপর হামলা করে। বনের গাছ পাচারের সরকারি উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। শুধু তাই নয় তারা ডিএফওকে না অবগত করে আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলাও করেছে।

হামলায় অভিযুক্ত সাতছড়ি উদ্যানের জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কলটি রিসিভ হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ঘটনা স্বীকার করে বলেন, তাদের উপর হামলার বিষয়টি আমরা না বুঝে করেছি। আমরা এটি সমাধানের চেষ্টা করছি।

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি উঠিয়ে নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান রতন বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলাকারী বনের ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত বনের গাছ পাচার করছে। বনে তৈরি করেছে অপরাধের সিন্ডিকেট। তাছাড়া এক কর্মকর্তা নিয়মিত ড্রাগস সেবন করেন। যা টেস্ট করলেই বের হয়ে আসবে। আমরা সাংবাদিকের উপর হামলার দ্রুত বিচার করছি। অন্যথায় আমরা সাংবাদিকরা আন্দোলনে ডাক দেব।

এ বিষয়ে সিলেটের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আবুল কালাম বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা তদন্ত করে এই ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আর আমাকে না জানিয়েই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়েরের বিষয়টা আমাকে বলে করেনি এরা। এসব নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুনারুঘাট থানার ওসি মো. নূর আলম বলেন, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছেন। আমাদের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক স্যারও এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। রবিবার আবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই বিষয়ে মামলা গ্রহণ করবো।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

বনের গাছ চুরির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিক, মামলা

সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের চুরি হওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা সমমূল্যের সেগুন গাছের আলামতের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় দুইজন সাংবাদিক। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে বন কর্মকর্তারা।

হামলার শিকার ওই সাংবাদিকরা হলেন- দৈনিক কালবেলার উপজেলার প্রতিনিধি মুজাহিদ মসি ও বাংলা টাইমস পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ত্রিপুরারি দেবনাথ।

অন্যদিকে সাংবাদিকের উপর হামলাকারীরা হলেন- সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ও জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন।

হামলার শিকার সাংবাদিকরা অভিযোগ করে জানান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও তেলমাছড়ায় মাসখানেক আগে ৪টি বড় সেগুন গাছ উদ্যানের ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাচার করেন। যার কাঠের পরিমাণ প্রায় ৬০০ ফুট। যার সম্ভাব্য বাজার দাম ১৮-২০ লাখ টাকা।

কিন্তু গাছ চুরির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বনকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তাদেরই একজন সাংবাদিকদের কাছে ঘটনা ফাঁস করে দেয়। খবর পেয়ে ওই সাংবাদিকরা শনিবার সরেজমিনে এই ঘটনার আলামত সংগ্রহ ও ভিডিও করতে গেলে বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ও জুনিয়র ওয়াল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদসহ আরো কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। তাদের ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়াসহ শারীরিকভাবে হেনস্ত করেন। পাশাপাশি এই বিষয়ে সংবাদ প্রচার করলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা দায়ের হবে বলেও হুমকি দেন বনের ওই দুই কর্মকর্তা-কর্মচারী।

আরও পড়ুন : রাবি ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিতে রাকসু কার্যালয় ভাঙচুর, কার্যক্রম স্থবির

সাংবাদিক মুজাহিদ মসি ও ত্রিপুরারি দেবনাথ বলেন, প্রতিনিয়ত তারা রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে গাছ পাচার করছে। অনেক আগে থেকেই আমরা এসব নিয়ে লেখালেখি করছি। এতে আমাদের উপর ক্ষোভ রয়েছে। গতকাল সেগুনগাছের কাটা গুঁড়ির ভিডিও ধারণ করতে গেলে আমাদের উপর হামলা করে। বনের গাছ পাচারের সরকারি উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। শুধু তাই নয় তারা ডিএফওকে না অবগত করে আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলাও করেছে।

হামলায় অভিযুক্ত সাতছড়ি উদ্যানের জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কলটি রিসিভ হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ঘটনা স্বীকার করে বলেন, তাদের উপর হামলার বিষয়টি আমরা না বুঝে করেছি। আমরা এটি সমাধানের চেষ্টা করছি।

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি উঠিয়ে নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান রতন বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলাকারী বনের ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত বনের গাছ পাচার করছে। বনে তৈরি করেছে অপরাধের সিন্ডিকেট। তাছাড়া এক কর্মকর্তা নিয়মিত ড্রাগস সেবন করেন। যা টেস্ট করলেই বের হয়ে আসবে। আমরা সাংবাদিকের উপর হামলার দ্রুত বিচার করছি। অন্যথায় আমরা সাংবাদিকরা আন্দোলনে ডাক দেব।

এ বিষয়ে সিলেটের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আবুল কালাম বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা তদন্ত করে এই ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আর আমাকে না জানিয়েই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়েরের বিষয়টা আমাকে বলে করেনি এরা। এসব নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুনারুঘাট থানার ওসি মো. নূর আলম বলেন, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছেন। আমাদের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক স্যারও এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। রবিবার আবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই বিষয়ে মামলা গ্রহণ করবো।