দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের চাকরি ফেরত প্রক্রিয়া আপাতত থেমে গেছে। হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে জ্যেষ্ঠতাসহ পুনর্বহাল করার কথা থাকলেও দুদক সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
হাইকোর্ট সম্প্রতি প্রকাশিত ১৯ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে শরীফ উদ্দিনকে তার পূর্বের পদে ফিরিয়ে দিতে এবং পাওনা বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ করতে কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা ছিল। তবে দুদকের আপিলের কারণে এখন তা কার্যকর হচ্ছে না।
চলতি সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে দুদকের করা এ আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শরীফ উদ্দিনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন।
আরও পড়ুন : পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবারও চমক, মিলল ৩২ বস্তা টাকা
এর আগে ২০২২ সালের মার্চে চাকরি ফেরতের দাবিতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিচারপতি রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের বেঞ্চ শরীফ উদ্দিনের পক্ষে রায় দেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ২০০৮’-এর বিধি ৫৪(২) অনুযায়ী জনস্বার্থে তাকে চাকরিচ্যুত করা হলো। এ সময় তাকে ৯০ দিনের বেতন এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।
চট্টগ্রাম কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক আলোচিত দুর্নীতি মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন শরীফ উদ্দিন। এরপর থেকেই বিভিন্ন মহলের বিরাগভাজন হন তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পরিবারসহ হত্যার হুমকিও পান তিনি এবং এ ঘটনায় চট্টগ্রামের খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
বর্তমানে দুদকের আপিলের কারণে তার চাকরি ফেরত প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো।
ঢাকা ডেস্ক 









