০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ভোট চুরির অভিযোগে মোদির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • 60

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও এবার তার বৈধতা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোটার তালিকার জালিয়াতি ও কারসাজির মাধ্যমে বিজেপি জয়লাভ করেছে—এমন দাবি তুলেছেন কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দল।

বুধবার (২৭ আগস্ট) বিহারের মুজফফরপুরে এক নির্বাচনী সমাবেশে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জাল ভোটার যোগ করা হয়েছিল। তার দাবি, এ কাজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সহযোগিতা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশন।

রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগে সমর্থন দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে ও আরজেডির মতো দলগুলো। তৃণমূলের অভিষেক ব্যানার্জী বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন নিজেই স্বীকার করে যে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অসংগতি আছে, তবে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়। তার মতে, মোদি ও পুরো মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করা উচিত এবং অবিলম্বে লোকসভা ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন।

বিরোধীদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে অস্বস্তির সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) চালিয়ে ইতিমধ্যেই ৬৫ লাখ নাম কেটে দেওয়ার পর প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য—শুধু বিহার বা পশ্চিমবঙ্গেই যদি ভুয়া ভোটার থাকে, তাহলে গুজরাট বা মহারাষ্ট্রে তালিকা নিখুঁত—এটা মানা যায় না।

আরও পড়ুন : রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত!

যদিও ক্ষমতাসীন বিজেপি অভিযোগগুলো সরাসরি নাকচ করেছে। দলটির নেতাদের মতে, বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে মোদিকে ঘায়েল করার জন্য ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। বিজেপি মুখপাত্ররা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, কংগ্রেসের আমলে নিয়োগ পাওয়া নির্বাচন কমিশনারদের সময়েও তো মোদি একাধিকবার গুজরাটে জয়ী হয়েছেন, তখন কি সেই ভোটও চুরি করা হয়েছিল?

তবুও বিরোধীদের লাগাতার দাবিতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। একদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভোটার অধিকার আন্দোলন চলছে, অন্যদিকে তৃণমূল, ডিএমকে ও আরজেডি প্রকাশ্যে মোদির পদত্যাগ দাবি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটানা ১১ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা নরেন্দ্র মোদি এর আগে এত বড় বৈধতা সংকটের মুখে পড়েননি। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ চাপ কীভাবে সামলাবে বিজেপি—এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে ভারতীয় রাজনীতি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ভোট চুরির অভিযোগে মোদির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ

সর্বশেষ আপডেট : ০২:২৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও এবার তার বৈধতা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোটার তালিকার জালিয়াতি ও কারসাজির মাধ্যমে বিজেপি জয়লাভ করেছে—এমন দাবি তুলেছেন কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দল।

বুধবার (২৭ আগস্ট) বিহারের মুজফফরপুরে এক নির্বাচনী সমাবেশে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জাল ভোটার যোগ করা হয়েছিল। তার দাবি, এ কাজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সহযোগিতা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশন।

রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগে সমর্থন দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে ও আরজেডির মতো দলগুলো। তৃণমূলের অভিষেক ব্যানার্জী বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন নিজেই স্বীকার করে যে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অসংগতি আছে, তবে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়। তার মতে, মোদি ও পুরো মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করা উচিত এবং অবিলম্বে লোকসভা ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন।

বিরোধীদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে অস্বস্তির সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) চালিয়ে ইতিমধ্যেই ৬৫ লাখ নাম কেটে দেওয়ার পর প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য—শুধু বিহার বা পশ্চিমবঙ্গেই যদি ভুয়া ভোটার থাকে, তাহলে গুজরাট বা মহারাষ্ট্রে তালিকা নিখুঁত—এটা মানা যায় না।

আরও পড়ুন : রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত!

যদিও ক্ষমতাসীন বিজেপি অভিযোগগুলো সরাসরি নাকচ করেছে। দলটির নেতাদের মতে, বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে মোদিকে ঘায়েল করার জন্য ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। বিজেপি মুখপাত্ররা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, কংগ্রেসের আমলে নিয়োগ পাওয়া নির্বাচন কমিশনারদের সময়েও তো মোদি একাধিকবার গুজরাটে জয়ী হয়েছেন, তখন কি সেই ভোটও চুরি করা হয়েছিল?

তবুও বিরোধীদের লাগাতার দাবিতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। একদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভোটার অধিকার আন্দোলন চলছে, অন্যদিকে তৃণমূল, ডিএমকে ও আরজেডি প্রকাশ্যে মোদির পদত্যাগ দাবি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটানা ১১ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা নরেন্দ্র মোদি এর আগে এত বড় বৈধতা সংকটের মুখে পড়েননি। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ চাপ কীভাবে সামলাবে বিজেপি—এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে ভারতীয় রাজনীতি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা