ইরানের ‘কাসেম বাসির’কে সবচেয়ে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র বলে দাবি করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা ও সহায়তা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের আরোপিত যুদ্ধ শুরুর আগে ‘কাসেম বাসির’ নামে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করা হয়েছিল। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের সবচেয়ে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র যা আমরা যুদ্ধে ব্যবহার করিনি।
এ বিষয়ে পার্সটুডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাসেম বাসির হলো সবচেয়ে নির্ভুল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। ইলেকট্রনিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম ১,২০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উন্নত নেভিগেশন এবং থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত।
আরও পড়ুন : জাহান্নামের দরজা শিগগির খুলে যাবে : ইসরায়েল
ক্ষেপণাস্ত্রটি ১,২০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার এবং অত্যন্ত উচ্চ নির্ভুলতা (এক মিটারেরও কম ত্রুটিসহ) দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি উন্নত থার্মাল ইমেজিং (অপটিক্যাল) সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত যা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সক্ষম।
এই ক্ষেপণাস্ত্রের নেভিগেশন সিস্টেম ডিজাইন করার সময়, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করেননি, যার ফলে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ মোকাবেলায় প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। এছাড়াও, ক্ষেপণাস্ত্রটি শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি মধ্য দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন : ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া শুরু, একের পর এক সফল পরীক্ষা
কাসেম বাসির গুরুতর ইলেকট্রনিক জ্যামিং পরিস্থিতিতেও সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ মোকাবেলায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল প্রধান লক্ষ্যবস্তুকে বেশ কয়েকটি গৌণ লক্ষ্যবস্তু থেকে আলাদা করার ক্ষমতা রাখে, যা এর উচ্চ নির্ভুলতার প্রমাণ।
কাসেম বাসির ক্ষেপণাস্ত্র, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাসহ জটিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ফলে প্রমাণ হলো ইরান স্মার্ট অস্ত্রের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে
ঢাকা ডেস্ক 









