১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের সামনে মহাবিপদ

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
  • 106

ইরানের দীর্ঘতম নদী কারুন এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে। খরা, পানির প্রবাহ হ্রাস, রাসায়নিক দূষণ ও জলাভূমির ক্ষয়ের কারণে অদূর ভবিষ্যতে নদীর বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।

কারুন-৩, কারুন-৪ ও গোতভান্দের মতো বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে ভয়াবহভাবে হ্রাস করেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বাঁধ নির্মাণ নীতিকে অস্থিতিশীল ও স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা চালিত বলে সমালোচনা করছেন। বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ঘাটতি এবং দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে প্রকল্পগুলো নদীর প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে বলে তাদের অভিমত।

জলাভূমি বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আলী আরভাহি বলেন, “কারুন নদীর সংকটের প্রধান কারণ হচ্ছে নির্বিচারে বাঁধ নির্মাণ, ইন্টার-বেসিন পানি স্থানান্তর এবং পানি-নির্ভর ফসল চাষ।”

আরও পড়ুন : ইরানে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো আরও এক গাদ্দারকে

ইসফাহান ও ইয়াজদের মতো প্রদেশে পানি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি খুজেস্তানে আখ ও ধানের মতো পানিখেকো ফসল চাষ নদীর ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

তিনি জানান, একসময় কারুন নদীর প্রবাহ ছিল প্রতি সেকেন্ডে ৫০০–৬০০ ঘনমিটার। বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০০ ঘনমিটারের নিচে।

খুজেস্তান প্রদেশ আখ চাষের জন্য পরিচিত। কিন্তু পানি সংকট থাকা সত্ত্বেও এখনো ৮০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আখের চাষ চলছে। আরভাহি মনে করেন, আধা-শুষ্ক জলবায়ুর এই অঞ্চলে আখ চাষ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং এটি কারুন অববাহিকার সবচেয়ে বড় পরিকল্পনাগত ভুলগুলোর একটি।

অতিরিক্ত পানি উত্তোলন শুধু নদীর প্রবাহই শুকিয়ে দিচ্ছে না, বরং মারাত্মক বায়ুদূষণ ও জলবায়ুগত ঝুঁকিরও জন্ম দিচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ইরানের সামনে মহাবিপদ

সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

ইরানের দীর্ঘতম নদী কারুন এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে। খরা, পানির প্রবাহ হ্রাস, রাসায়নিক দূষণ ও জলাভূমির ক্ষয়ের কারণে অদূর ভবিষ্যতে নদীর বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।

কারুন-৩, কারুন-৪ ও গোতভান্দের মতো বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে ভয়াবহভাবে হ্রাস করেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুসারে, বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বাঁধ নির্মাণ নীতিকে অস্থিতিশীল ও স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারা চালিত বলে সমালোচনা করছেন। বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ঘাটতি এবং দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে প্রকল্পগুলো নদীর প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে বলে তাদের অভিমত।

জলাভূমি বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আলী আরভাহি বলেন, “কারুন নদীর সংকটের প্রধান কারণ হচ্ছে নির্বিচারে বাঁধ নির্মাণ, ইন্টার-বেসিন পানি স্থানান্তর এবং পানি-নির্ভর ফসল চাষ।”

আরও পড়ুন : ইরানে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো আরও এক গাদ্দারকে

ইসফাহান ও ইয়াজদের মতো প্রদেশে পানি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি খুজেস্তানে আখ ও ধানের মতো পানিখেকো ফসল চাষ নদীর ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

তিনি জানান, একসময় কারুন নদীর প্রবাহ ছিল প্রতি সেকেন্ডে ৫০০–৬০০ ঘনমিটার। বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১০০ ঘনমিটারের নিচে।

খুজেস্তান প্রদেশ আখ চাষের জন্য পরিচিত। কিন্তু পানি সংকট থাকা সত্ত্বেও এখনো ৮০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আখের চাষ চলছে। আরভাহি মনে করেন, আধা-শুষ্ক জলবায়ুর এই অঞ্চলে আখ চাষ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং এটি কারুন অববাহিকার সবচেয়ে বড় পরিকল্পনাগত ভুলগুলোর একটি।

অতিরিক্ত পানি উত্তোলন শুধু নদীর প্রবাহই শুকিয়ে দিচ্ছে না, বরং মারাত্মক বায়ুদূষণ ও জলবায়ুগত ঝুঁকিরও জন্ম দিচ্ছে।