১২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ফুরিয়ে আসছে দেশের গ্যাসের মজুত

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • 105

দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উৎপাদন শুরু না হলে আগামী আট বছরের মধ্যেই দেশীয় মজুত ফুরিয়ে যাবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। ২০১৭ সালে এই পরিমাণ ছিল ২,৭০০ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

এ অবস্থায় আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি করছে এবং গ্যাস–বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। হিসাব অনুযায়ী এটি ১০ বছর চলার মতো, তবে শেষ পর্যায়ে সব গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হয় না। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যত আট বছরের মধ্যে মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

‘দেশীয় গ্যাসের দাম ইউনিটপ্রতি প্রায় ৩ টাকা, কিন্তু আমদানিকৃত গ্যাসের খরচ প্রায় ৫৫ টাকা। এই বৈষম্যের কারণে আমদানি নির্ভরতা মুদ্রাসঙ্কট ও মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে,’ বলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

আরও পড়ুন : এবার আলু কিনবে সরকার

সরকার বলছে, সংকট মোকাবিলায় তিনটি কৌশল নেওয়া হয়েছে— নতুন কূপ খনন, স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান, এবং আমদানি সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “পাশাপাশি গ্যাসের অপচয় ও চুরি রোধেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

বাংলাদেশে সর্বশেষ বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে সিলেটের বিবিয়ানা এলাকায়। এরপর আর কোনো বড় আবিষ্কার হয়নি। ২০২১ সালে সিলেটের জকিগঞ্জে ছোট একটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেলেও তা খুব সীমিত মজুতের। অন্যদিকে ভারত ও মিয়ানমার বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল গ্যাস উত্তোলন করছে, অথচ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধান এখনো সীমিত পর্যায়ে আছে।

ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম বলেন, “বাংলাদেশ গ্যাসের দিক থেকে সম্ভাবনাময়। কিন্তু আমরা সম্ভাবনার সামান্য অংশই আবিষ্কার করেছি। সমুদ্র ও স্থলে আরও ব্যাপক অনুসন্ধান চালাতে হবে।”

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো না গেলে বাংলাদেশকে আরও দীর্ঘ সময় ব্যয়বহুল আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবে, যা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র : প্রথম আলো

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ফুরিয়ে আসছে দেশের গ্যাসের মজুত

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও উৎপাদন শুরু না হলে আগামী আট বছরের মধ্যেই দেশীয় মজুত ফুরিয়ে যাবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। ২০১৭ সালে এই পরিমাণ ছিল ২,৭০০ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

এ অবস্থায় আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি করছে এবং গ্যাস–বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। হিসাব অনুযায়ী এটি ১০ বছর চলার মতো, তবে শেষ পর্যায়ে সব গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হয় না। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যত আট বছরের মধ্যে মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

‘দেশীয় গ্যাসের দাম ইউনিটপ্রতি প্রায় ৩ টাকা, কিন্তু আমদানিকৃত গ্যাসের খরচ প্রায় ৫৫ টাকা। এই বৈষম্যের কারণে আমদানি নির্ভরতা মুদ্রাসঙ্কট ও মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে,’ বলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

আরও পড়ুন : এবার আলু কিনবে সরকার

সরকার বলছে, সংকট মোকাবিলায় তিনটি কৌশল নেওয়া হয়েছে— নতুন কূপ খনন, স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান, এবং আমদানি সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামো নির্মাণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “পাশাপাশি গ্যাসের অপচয় ও চুরি রোধেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

বাংলাদেশে সর্বশেষ বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে সিলেটের বিবিয়ানা এলাকায়। এরপর আর কোনো বড় আবিষ্কার হয়নি। ২০২১ সালে সিলেটের জকিগঞ্জে ছোট একটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেলেও তা খুব সীমিত মজুতের। অন্যদিকে ভারত ও মিয়ানমার বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল গ্যাস উত্তোলন করছে, অথচ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধান এখনো সীমিত পর্যায়ে আছে।

ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম বলেন, “বাংলাদেশ গ্যাসের দিক থেকে সম্ভাবনাময়। কিন্তু আমরা সম্ভাবনার সামান্য অংশই আবিষ্কার করেছি। সমুদ্র ও স্থলে আরও ব্যাপক অনুসন্ধান চালাতে হবে।”

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো না গেলে বাংলাদেশকে আরও দীর্ঘ সময় ব্যয়বহুল আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবে, যা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

সূত্র : প্রথম আলো