০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ডিবির সেই এসআইকে ধরে বেধড়ক পেটাল জনতা

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
  • 126

ডিবির সাবেক এসআই মাহবুব হাসান। ছবি : সংগৃহীত

ভুক্তভোগী ও উত্তেজিত জনতার হাতে সংঘবদ্ধ পিটুনির শিকার হয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) বরখাস্ত হওয়া আলোচিত উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব হাসান।

উপপরিদর্শক মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষকেও আটক করে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে রাজশাহী নগরের হাজির মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। এরপর সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ এসআই মাহবুব হাসান আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, মাহবুব হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে দলীয় প্রভাবে তিনি পুলিশে চাকরি পান এবং আরএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) পোস্টিং নেন। এ সময় তিনি বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও পঙ্গু করেছেন।

 

আরও পড়ুন : কোনাবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

তবে শুধু রাজনৈতিক বিরোধীরাই নয়, সাধারণ মানুষও তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর এসআই মাহবুব হাসান সাদা পোশাকে নগরের শিমলাবাগান এলাকা থেকে রাজীব আলী রাতুল (৩১) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে যান। এরপর রাজীবের বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে ছেলেকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে।

পরে ভয়ে শিমলাবাগানে গিয়ে মাহবুব হাসানের হাতে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন বাবা মাসুদ রানা। এ সময় মাহবুব হাসান রাজীবের বাবাকে বাড়ি চলে যেতে বলেন এবং রাজীবকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরদিন রাজীবকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন : বৃষ্টিকে বিয়ে করতে কুষ্টিয়া এলেন চীনা যুবক

দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ করার পর জামিন পান রাজীব। এর এক মাস আগে নগরের রেলগেট এলাকায় মাহবুব হাসানের সঙ্গে দেখা হলে তিনি টাকা ফেরত চান। তখন মাহবুব হাসান মারমুখী আচরণ করে বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছেন। টাকা চাইলে মেরে ফেলা হবে বলে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখান।

এ ছাড়া গত বছর গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীতে দুজন শহীদ হন—আলী রায়হান ও সাকিব আনজুম। ডিবির বরখাস্ত হওয়া এসআই মাহবুব হাসান দুটি হত্যা মামলারও আসামি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ডিবির সেই এসআইকে ধরে বেধড়ক পেটাল জনতা

সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

ভুক্তভোগী ও উত্তেজিত জনতার হাতে সংঘবদ্ধ পিটুনির শিকার হয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) বরখাস্ত হওয়া আলোচিত উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব হাসান।

উপপরিদর্শক মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষকেও আটক করে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) মধ্যরাতে রাজশাহী নগরের হাজির মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। এরপর সংঘবদ্ধভাবে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাসুদ এসআই মাহবুব হাসান আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, মাহবুব হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে দলীয় প্রভাবে তিনি পুলিশে চাকরি পান এবং আরএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) পোস্টিং নেন। এ সময় তিনি বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল ও শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও পঙ্গু করেছেন।

 

আরও পড়ুন : কোনাবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই

তবে শুধু রাজনৈতিক বিরোধীরাই নয়, সাধারণ মানুষও তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মাহবুব হাসানের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর এসআই মাহবুব হাসান সাদা পোশাকে নগরের শিমলাবাগান এলাকা থেকে রাজীব আলী রাতুল (৩১) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে যান। এরপর রাজীবের বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা না দিলে ছেলেকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে।

পরে ভয়ে শিমলাবাগানে গিয়ে মাহবুব হাসানের হাতে পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন বাবা মাসুদ রানা। এ সময় মাহবুব হাসান রাজীবের বাবাকে বাড়ি চলে যেতে বলেন এবং রাজীবকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরদিন রাজীবকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন : বৃষ্টিকে বিয়ে করতে কুষ্টিয়া এলেন চীনা যুবক

দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ করার পর জামিন পান রাজীব। এর এক মাস আগে নগরের রেলগেট এলাকায় মাহবুব হাসানের সঙ্গে দেখা হলে তিনি টাকা ফেরত চান। তখন মাহবুব হাসান মারমুখী আচরণ করে বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছেন। টাকা চাইলে মেরে ফেলা হবে বলে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখান।

এ ছাড়া গত বছর গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীতে দুজন শহীদ হন—আলী রায়হান ও সাকিব আনজুম। ডিবির বরখাস্ত হওয়া এসআই মাহবুব হাসান দুটি হত্যা মামলারও আসামি।