০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দুই দশক পর ফিরলো নতুন কুঁড়ি

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • 74

ছবি: বাসস

‘নতুন কুঁড়ি’ তেমনই একটি নাম, একটি অনুভূতি, একটি আন্দোলন। একটি সময় ছিল, যখন শুক্রবার মানেই শিশু-কিশোরদের প্রাণের অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’। টেলিভিশনের পর্দায় সেই চেনা গান ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’- এই গানটি শোনা মানেই নতুন প্রতিভা খোঁজার সূচনা।

বাংলার ঘরে ঘরে এটি শুধু একটি শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ছিল না, বরং হয়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর বন্ধ থাকার পর সেই অনুষ্ঠান আবারও ফিরছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায়। এর ফলে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। নতুন কুঁড়ি হচ্ছে শিশু শিল্পীদের জন্য বাংলাদেশি রিয়েলিটি টেলিভিশন প্রতিযোগিতা।

নতুন কুঁড়ি বাংলাদেশ টেলিভিশনে শুরু হওয়ার প্রথম বছর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল। শিশুদের কণ্ঠে আবৃত্তি, শুদ্ধ উচ্চারণে গান, মনোমুগ্ধকর অভিনয় আর হৃদয়ছোঁয়া নৃত্য- এসব যেন দর্শকদের নতুন আশায় ভরিয়ে তুলেছিল। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা ছিল না, ছিল শিশুদের শিল্পী হয়ে ওঠার প্রথম পাঠশালা।

আরও পড়ুন : ৮০-১০০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি

এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে উঠে এসেছেন অসংখ্য গুণী শিল্পী। আজ যারা বাংলাদেশের নাটক, সংগীত, নৃত্যসহ সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাদের অনেকেরই যাত্রা শুরু ‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে।

নুসরাত ইমরোজ তিশা, রুমানা রশিদ ঈষিতা, মেহের আফরোজ শাওন, কনকচাঁপা, শামীমা ইয়াসমিন দিবা, রাহাত আজিম, আজাদ রহমান শাকিল, আজমিরী সুলতানা হলী, সিহান মনিরুল হাসান, শাহনাজ চৌধুরী লুনা, রুদাবা আদনীন কুমকুম, গায়ক সামিনা চৌধুরী, হেমন্তী রক্ষিত দাস, নৃত্যশিল্পী চাঁদনী- এমন অসংখ্য পরিচিত মুখ এই প্রতিযোগিতার পথ ধরে উঠে এসেছেন।

কেউ সংগীতে, কেউ অভিনয়ে, কেউ আবার নৃত্যে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তাদের অনেকে আজ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করছেন।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হতে যাওয়া নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানে আনা হয়েছে আধুনিক কাঠামোগত পরিবর্তন। এক্ষেত্রে পুরো দেশকে ভাগ করা হয়েছে ১৯টি অঞ্চলে। প্রতিটি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব।

এরপর নির্বাচিত প্রতিযোগীরা ঢাকায় এসে অংশ নেবেন চূড়ান্ত পর্বে। অংশগ্রহণকারীদের বয়সভিত্তিক দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে-‘ক’ (৬-১১ বছর) এবং ‘খ’ (১১-১৫ বছর)। প্রতিযোগিতা করা যাবে সর্বোচ্চ তিনটি বিষয়ে।

প্রতিযোগিতার বিভাগগুলোকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এবারের বিভাগগুলো হল- দেশাত্মবোধক গান, আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত, হামদ-নাত, অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা, কৌতুক, সাধারণ নৃত্য ও উচ্চাঙ্গ নৃত্য। প্রতিটি বিভাগে থাকবে অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য বিচারক প্যানেল। এছাড়া অনুষ্ঠানটি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে, যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষ অংশগ্রহণকারীদের সৃজনশীলতা দেখতে পান।

শিল্প-সাহিত্য একটি জাতির আত্মাকে গড়ে তোলে। ‘নতুন কুঁড়ি’ সেই আত্মগঠনের অন্যতম মাধ্যম। এটি শিশুদের মধ্যে শুধু প্রতিভা বিকাশই করে না, পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও জাতীয়তাবোধও গড়ে তোলে। শিশুরা শেখে দলবদ্ধভাবে কাজ করা, অন্যের প্রতিভাকে সম্মান করা এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে ভালোবাসা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের অভাবের কারণে শিশুরা বিকল্প বিনোদন ও অনলাইন নির্ভরতায় ঝুঁকছে। ‘নতুন কুঁড়ি’র পুনর্জাগরণ তাই শুধু বিনোদনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং প্রজন্মকে সঠিক সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরিয়ে আনারও এক মহৎ উদ্যোগ।

নতুন কুঁড়ির যাত্রা শুরু

১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোস্তফা মনোয়ারের উদ্যোগে ‘নতুন কুঁড়ি’র যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় কবি গোলাম মোস্তফার ‘কিশোর নামক’ কবিতার অনুপ্রেরণায়।

উদ্দেশ্য ছিল- দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ের একটি মঞ্চে তুলে আনা, যেন তারা নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠতে পারে।

তবে ২০০৬ সালে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় এই অনুষ্ঠান। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এমন আয়োজনের অনুপস্থিতি শুধু সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেই নয়, শিশুদের মানসিক বিকাশেও একটি বড় শূন্যতা তৈরি করে। দীর্ঘ এই সময়ে জাতীয় পর্যায়ের তেমন কোনো শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠেনি, যার ফলে অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা হারিয়ে গিয়েছিল নীরবে।

অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট। নতুন রূপে, আধুনিক কাঠামোয় এবং বিস্তৃত পরিকল্পনায় ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।

আরও পড়ুন : মোবাইলের ডায়াল প্যাডে হঠাৎ কেন পরিবর্তন

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই আয়োজন আগামী প্রজন্মকে সৃজনশীল করে গড়ে তুলবে। এটি একটি নতুন যুগের সূচনা।’

বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম নতুন কুঁড়ির এই প্রত্যাবর্তনকে একটি ‘সাংস্কৃতিক জোয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে  বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলন। এটি সারাদেশের শিশু-কিশোরদের শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় যুক্ত করবে, প্রযুক্তির আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নতুন কুঁড়িকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতায় অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়, যা ছিল খুবই দুঃখজনক। তবে এখন আমরা নতুন করে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি, যাতে এই অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে হয় এবং আগামীর প্রতিভাবান প্রজন্ম সামনে চলে আসে।’

সূত্র : বাসস

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

দুই দশক পর ফিরলো নতুন কুঁড়ি

সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

‘নতুন কুঁড়ি’ তেমনই একটি নাম, একটি অনুভূতি, একটি আন্দোলন। একটি সময় ছিল, যখন শুক্রবার মানেই শিশু-কিশোরদের প্রাণের অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’। টেলিভিশনের পর্দায় সেই চেনা গান ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’- এই গানটি শোনা মানেই নতুন প্রতিভা খোঁজার সূচনা।

বাংলার ঘরে ঘরে এটি শুধু একটি শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা ছিল না, বরং হয়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক আন্দোলন।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর বন্ধ থাকার পর সেই অনুষ্ঠান আবারও ফিরছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায়। এর ফলে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। নতুন কুঁড়ি হচ্ছে শিশু শিল্পীদের জন্য বাংলাদেশি রিয়েলিটি টেলিভিশন প্রতিযোগিতা।

নতুন কুঁড়ি বাংলাদেশ টেলিভিশনে শুরু হওয়ার প্রথম বছর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিল। শিশুদের কণ্ঠে আবৃত্তি, শুদ্ধ উচ্চারণে গান, মনোমুগ্ধকর অভিনয় আর হৃদয়ছোঁয়া নৃত্য- এসব যেন দর্শকদের নতুন আশায় ভরিয়ে তুলেছিল। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা ছিল না, ছিল শিশুদের শিল্পী হয়ে ওঠার প্রথম পাঠশালা।

আরও পড়ুন : ৮০-১০০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি

এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে উঠে এসেছেন অসংখ্য গুণী শিল্পী। আজ যারা বাংলাদেশের নাটক, সংগীত, নৃত্যসহ সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাদের অনেকেরই যাত্রা শুরু ‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে।

নুসরাত ইমরোজ তিশা, রুমানা রশিদ ঈষিতা, মেহের আফরোজ শাওন, কনকচাঁপা, শামীমা ইয়াসমিন দিবা, রাহাত আজিম, আজাদ রহমান শাকিল, আজমিরী সুলতানা হলী, সিহান মনিরুল হাসান, শাহনাজ চৌধুরী লুনা, রুদাবা আদনীন কুমকুম, গায়ক সামিনা চৌধুরী, হেমন্তী রক্ষিত দাস, নৃত্যশিল্পী চাঁদনী- এমন অসংখ্য পরিচিত মুখ এই প্রতিযোগিতার পথ ধরে উঠে এসেছেন।

কেউ সংগীতে, কেউ অভিনয়ে, কেউ আবার নৃত্যে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তাদের অনেকে আজ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করছেন।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হতে যাওয়া নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানে আনা হয়েছে আধুনিক কাঠামোগত পরিবর্তন। এক্ষেত্রে পুরো দেশকে ভাগ করা হয়েছে ১৯টি অঞ্চলে। প্রতিটি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব।

এরপর নির্বাচিত প্রতিযোগীরা ঢাকায় এসে অংশ নেবেন চূড়ান্ত পর্বে। অংশগ্রহণকারীদের বয়সভিত্তিক দুটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে-‘ক’ (৬-১১ বছর) এবং ‘খ’ (১১-১৫ বছর)। প্রতিযোগিতা করা যাবে সর্বোচ্চ তিনটি বিষয়ে।

প্রতিযোগিতার বিভাগগুলোকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এবারের বিভাগগুলো হল- দেশাত্মবোধক গান, আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত, হামদ-নাত, অভিনয়, আবৃত্তি, গল্প বলা, কৌতুক, সাধারণ নৃত্য ও উচ্চাঙ্গ নৃত্য। প্রতিটি বিভাগে থাকবে অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য বিচারক প্যানেল। এছাড়া অনুষ্ঠানটি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে, যাতে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষ অংশগ্রহণকারীদের সৃজনশীলতা দেখতে পান।

শিল্প-সাহিত্য একটি জাতির আত্মাকে গড়ে তোলে। ‘নতুন কুঁড়ি’ সেই আত্মগঠনের অন্যতম মাধ্যম। এটি শিশুদের মধ্যে শুধু প্রতিভা বিকাশই করে না, পাশাপাশি শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও জাতীয়তাবোধও গড়ে তোলে। শিশুরা শেখে দলবদ্ধভাবে কাজ করা, অন্যের প্রতিভাকে সম্মান করা এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে ভালোবাসা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের অভাবের কারণে শিশুরা বিকল্প বিনোদন ও অনলাইন নির্ভরতায় ঝুঁকছে। ‘নতুন কুঁড়ি’র পুনর্জাগরণ তাই শুধু বিনোদনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং প্রজন্মকে সঠিক সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরিয়ে আনারও এক মহৎ উদ্যোগ।

নতুন কুঁড়ির যাত্রা শুরু

১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোস্তফা মনোয়ারের উদ্যোগে ‘নতুন কুঁড়ি’র যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় কবি গোলাম মোস্তফার ‘কিশোর নামক’ কবিতার অনুপ্রেরণায়।

উদ্দেশ্য ছিল- দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ের একটি মঞ্চে তুলে আনা, যেন তারা নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠতে পারে।

তবে ২০০৬ সালে হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় এই অনুষ্ঠান। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এমন আয়োজনের অনুপস্থিতি শুধু সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেই নয়, শিশুদের মানসিক বিকাশেও একটি বড় শূন্যতা তৈরি করে। দীর্ঘ এই সময়ে জাতীয় পর্যায়ের তেমন কোনো শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠেনি, যার ফলে অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা হারিয়ে গিয়েছিল নীরবে।

অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট। নতুন রূপে, আধুনিক কাঠামোয় এবং বিস্তৃত পরিকল্পনায় ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।

আরও পড়ুন : মোবাইলের ডায়াল প্যাডে হঠাৎ কেন পরিবর্তন

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই আয়োজন আগামী প্রজন্মকে সৃজনশীল করে গড়ে তুলবে। এটি একটি নতুন যুগের সূচনা।’

বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম নতুন কুঁড়ির এই প্রত্যাবর্তনকে একটি ‘সাংস্কৃতিক জোয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে  বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক আন্দোলন। এটি সারাদেশের শিশু-কিশোরদের শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় যুক্ত করবে, প্রযুক্তির আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নতুন কুঁড়িকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতায় অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়, যা ছিল খুবই দুঃখজনক। তবে এখন আমরা নতুন করে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি, যাতে এই অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে হয় এবং আগামীর প্রতিভাবান প্রজন্ম সামনে চলে আসে।’

সূত্র : বাসস