ভোলার চরফ্যাশনে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে আটকে রেখে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ আগস্ট চরফ্যাশনের বেতুয়া লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া টিপু-১৩ লঞ্চে। তবে মামলা দায়ের করা হয় গত সোমবার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ওইদিন লঞ্চের ৩৮৫ নম্বর কেবিনে অবস্থান করছিলেন। তারই এলাকার বড়ভাই ছিলেন অন্য একটি কেবিনে। বিকেলে তিনি ওই ছাত্রীর কেবিনে এসে দরজা খোলা রেখে কথা বলছিলেন। এমন সময় পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডের মো. মিরাজ ও দক্ষিণ নাজিম উদ্দিন গ্রামের মো. আলাউদ্দিন বেপারী কেবিনে প্রবেশ করে তাদের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলে। পরে তারা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সেটি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
আরও পড়ুন : পরীক্ষা শেষে পিকনিকের টাকা সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের চাঁদাবাজি , আটক ৪
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মিরাজ ও আলাউদ্দিন তাদের দুজনকে মারধর করে। মিরাজ ছাত্রীর চুল ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি করেন এবং তার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন। এ ছাড়া তার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চরফ্যাশন আদালতের সহকারী পিপি হযরত আলী হিরন বলেন, ‘এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ফাঁদ। যারা জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।’
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, “ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।”
এ ঘটনায় লঞ্চযাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌপথে নিয়মিত টহল জোরদার করা জরুরি।
ঢাকা ডেস্ক 









