০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ভালো স্বামী বানাতে  জাতিসংঘের বিশেষ স্কুল,যা পড়ানো হয়

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
  • 55

ছবি : সংগৃহীত

পুরুষদের ভালো স্বামী বানাতে সেনেগালে ‘স্কুল ফর হাসবেন্ড’  নামে বিশেষ স্কুল শুরু করেছে জাতিসংঘ। ‘স্কুল ফর হাসবেন্ড’ নামের এই স্কুলে আক্ষরিক অর্থেই শেখানো হয় কীভাবে একজন পুরুষ ভালো স্বামী হতে পারেন।

বিশেষ সেই স্কুল একদিন ঘুরে দেখেছে বার্তা সংস্থা এপি। সেদিন ইমাম ইব্রাহীম ডায়ান ক্লাসে পড়াচ্ছিলেন কেন পুরুষদের গৃহস্থালী কাজে আরও বেশি সাহায্য করা উচিৎ।

পঞ্চাষোর্ধ ইব্রাহীম ডায়ান বলেন, ‘এমনকি নবীজীও (সা.)বলেছেন, যে পুরুষ তার স্ত্রী-সন্তানকে কাজে সাহায্য করে না সে “ভালো মুসলিম” নয়।’

পশ্চিম আফ্রিকার অনেক দেশের মতো সেনেগালেও যেকোনো কিছুতে পুরুষের কথাই শেষ কথা। এমনকি পরিবার পরিকল্পনাসহ জীবন বদলে দেওয়ার মতো বড় বড় সিদ্ধান্তগুলোতেও নারীদের কোনো মতামত নেওয়া হয় না। নারীর জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর জন্যও পুরুষ সদস্যের ‘অনুমতি’ নিতে হয় তাদের।

সেই দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন আনতে দেশটিতে বিশেষ এই কর্মসূচি চালু করেছে জাতিসংঘ। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সমাজের পুরুষ সদস্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে ‘ইতিবাচক পুরুষত্ব’ (পজিটিভ ম্যাসকুলিনিটি) জাগিয়ে তোলা।

ইমাম ইব্রাহীম জানান, ইতিবাচক পুরুষত্ব শেোতে ধর্মীয় প্রেক্ষাপট টানেন তিনি। কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ধর্মের প্রতি প্রচণ্ড সংবেদনশীল। জেন্ডার এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কেও পুরুষদের সচেতন করার চেষ্টা করেন তিনি। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা থেকে শুরু করে এইচআইভির মতো রোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। শুক্রবার জুমার নামাজের পরের খুৎবাতেও এসব নিয়ে আলোচনা করেন ইব্রাহীম।

আরও পড়ুন : আমি মিথ্যা বলেছি!  হাতজোড় করে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি: আমির খান

তিনি বলেন, ‘অনেক নারী আমার খুৎবার প্রশংসা করেন। তারা আমাকে জানান যে, তার খুৎবা এবং স্কুল ফর হাসবেন্ডের ক্লাসগুলো করার পর তাদের স্বামীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।’ এমনকি পুরুষেরাও তাঁকে জানিয়েছেন যে তারা এখন একজন স্বামী এবং বাবা হিসেবে নিজেদের আরও উন্নত করতে চান।

হাবিব ডিয়ালো নামের ৬০ বছর বয়সী এক পুরুষ জানান, ইমামের খুৎবা আর জাতিসংঘের কর্মসূচির ক্লাস করার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন বাড়িতে সন্তান জন্মদান কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের বউ যখন অন্তঃস্বত্ত্বা ছিল, তখন আমি তাদের হাসপাতালে ডেলিভারি করাতে উৎসাহিত করি।

যদিও প্রথমে আমার ছেলে একটু আপত্তি করছিল। হাসপাতালে খরচ কেমন হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল সে। কিন্তু আমি যখন তাকে বুঝিয়ে বলি যে এটা তার স্ত্রী ও সন্তানের জন্য কতটা জরুরি তখন যে বুঝতে পারে এবং রাজি হয়।’

২০১১ সাল থেকেই সেনেগালে এই কর্মসূচিটি চালিয়ে আসছে জাতিসংঘ। তবে, সম্প্রতি দেশটির নারী, পরিবার, লিঙ্গ ও শিশু সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে এটি। বর্তমানে দেশটির সরকার এই কর্মসূচিকে মাতৃকালীন মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছে।

শুধু সেনেগাল নয়, নাইজার, টোগো, বুরকিনা ফাসোসহ আফ্রিকার আরও কয়েকটি চলছে জাতিসংঘের এই ‘হাসবেন্ড ফর স্কুল’ কর্মসূচি। জাতিসংঘ বলছে, এই দেশগুলোতে নারী স্বাস্থ্যের বেশ উন্নতি হয়েছে।

আরও পড়ুন : বিয়ের রাতেই বরের মৃত্যু, ভিডিও ভাইরাল

শুধু মাতৃকালীন স্বাস্থ্য নয়, এই কর্মসূচিতে নারী অধিকার, সমতা এবং নিরাপদ যৌনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। সেনেগালজুড়ে এই প্রকল্পের প্রায় ২০টি স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ পুরুষকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। এই ৩০০ পুরুষ এখন নিজের জনবসতিতে তার অর্জিত জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছে।

তবে, এই প্রকল্পে কাদের অন্তর্ভূক্ত করা হবে তা বাছাই করে জাতিসংঘই। সামাজিকভাবে যারা নিজ এলাকায় সম্মানিত, নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতন, নেতৃত্বের গুণ রয়েছে এমন পুরুষদেরই বাছাই করা হয়।

যেহেতু নিজ নিজ এলাকায় তারা সম্মানিত, তাই সমাজে তাদের একটা আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। পরবর্তীতে সেই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণে যা শিখেছেন, উপলব্ধি করেছেন, তা বাকিদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন তারা।

খারি নডেয়ে নামের ৫২ বছর বয়সী এক নারী জানান, তার স্বামী আগে কোনো কাজেই হাত লাগাতো না, কিন্তু এখন তিনি রান্নাও করেন।

 

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ভালো স্বামী বানাতে  জাতিসংঘের বিশেষ স্কুল,যা পড়ানো হয়

সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

পুরুষদের ভালো স্বামী বানাতে সেনেগালে ‘স্কুল ফর হাসবেন্ড’  নামে বিশেষ স্কুল শুরু করেছে জাতিসংঘ। ‘স্কুল ফর হাসবেন্ড’ নামের এই স্কুলে আক্ষরিক অর্থেই শেখানো হয় কীভাবে একজন পুরুষ ভালো স্বামী হতে পারেন।

বিশেষ সেই স্কুল একদিন ঘুরে দেখেছে বার্তা সংস্থা এপি। সেদিন ইমাম ইব্রাহীম ডায়ান ক্লাসে পড়াচ্ছিলেন কেন পুরুষদের গৃহস্থালী কাজে আরও বেশি সাহায্য করা উচিৎ।

পঞ্চাষোর্ধ ইব্রাহীম ডায়ান বলেন, ‘এমনকি নবীজীও (সা.)বলেছেন, যে পুরুষ তার স্ত্রী-সন্তানকে কাজে সাহায্য করে না সে “ভালো মুসলিম” নয়।’

পশ্চিম আফ্রিকার অনেক দেশের মতো সেনেগালেও যেকোনো কিছুতে পুরুষের কথাই শেষ কথা। এমনকি পরিবার পরিকল্পনাসহ জীবন বদলে দেওয়ার মতো বড় বড় সিদ্ধান্তগুলোতেও নারীদের কোনো মতামত নেওয়া হয় না। নারীর জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর জন্যও পুরুষ সদস্যের ‘অনুমতি’ নিতে হয় তাদের।

সেই দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন আনতে দেশটিতে বিশেষ এই কর্মসূচি চালু করেছে জাতিসংঘ। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সমাজের পুরুষ সদস্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে ‘ইতিবাচক পুরুষত্ব’ (পজিটিভ ম্যাসকুলিনিটি) জাগিয়ে তোলা।

ইমাম ইব্রাহীম জানান, ইতিবাচক পুরুষত্ব শেোতে ধর্মীয় প্রেক্ষাপট টানেন তিনি। কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ ধর্মের প্রতি প্রচণ্ড সংবেদনশীল। জেন্ডার এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কেও পুরুষদের সচেতন করার চেষ্টা করেন তিনি। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা থেকে শুরু করে এইচআইভির মতো রোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। শুক্রবার জুমার নামাজের পরের খুৎবাতেও এসব নিয়ে আলোচনা করেন ইব্রাহীম।

আরও পড়ুন : আমি মিথ্যা বলেছি!  হাতজোড় করে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি: আমির খান

তিনি বলেন, ‘অনেক নারী আমার খুৎবার প্রশংসা করেন। তারা আমাকে জানান যে, তার খুৎবা এবং স্কুল ফর হাসবেন্ডের ক্লাসগুলো করার পর তাদের স্বামীদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।’ এমনকি পুরুষেরাও তাঁকে জানিয়েছেন যে তারা এখন একজন স্বামী এবং বাবা হিসেবে নিজেদের আরও উন্নত করতে চান।

হাবিব ডিয়ালো নামের ৬০ বছর বয়সী এক পুরুষ জানান, ইমামের খুৎবা আর জাতিসংঘের কর্মসূচির ক্লাস করার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন বাড়িতে সন্তান জন্মদান কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের বউ যখন অন্তঃস্বত্ত্বা ছিল, তখন আমি তাদের হাসপাতালে ডেলিভারি করাতে উৎসাহিত করি।

যদিও প্রথমে আমার ছেলে একটু আপত্তি করছিল। হাসপাতালে খরচ কেমন হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল সে। কিন্তু আমি যখন তাকে বুঝিয়ে বলি যে এটা তার স্ত্রী ও সন্তানের জন্য কতটা জরুরি তখন যে বুঝতে পারে এবং রাজি হয়।’

২০১১ সাল থেকেই সেনেগালে এই কর্মসূচিটি চালিয়ে আসছে জাতিসংঘ। তবে, সম্প্রতি দেশটির নারী, পরিবার, লিঙ্গ ও শিশু সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে এটি। বর্তমানে দেশটির সরকার এই কর্মসূচিকে মাতৃকালীন মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছে।

শুধু সেনেগাল নয়, নাইজার, টোগো, বুরকিনা ফাসোসহ আফ্রিকার আরও কয়েকটি চলছে জাতিসংঘের এই ‘হাসবেন্ড ফর স্কুল’ কর্মসূচি। জাতিসংঘ বলছে, এই দেশগুলোতে নারী স্বাস্থ্যের বেশ উন্নতি হয়েছে।

আরও পড়ুন : বিয়ের রাতেই বরের মৃত্যু, ভিডিও ভাইরাল

শুধু মাতৃকালীন স্বাস্থ্য নয়, এই কর্মসূচিতে নারী অধিকার, সমতা এবং নিরাপদ যৌনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। সেনেগালজুড়ে এই প্রকল্পের প্রায় ২০টি স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ পুরুষকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। এই ৩০০ পুরুষ এখন নিজের জনবসতিতে তার অর্জিত জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছে।

তবে, এই প্রকল্পে কাদের অন্তর্ভূক্ত করা হবে তা বাছাই করে জাতিসংঘই। সামাজিকভাবে যারা নিজ এলাকায় সম্মানিত, নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতন, নেতৃত্বের গুণ রয়েছে এমন পুরুষদেরই বাছাই করা হয়।

যেহেতু নিজ নিজ এলাকায় তারা সম্মানিত, তাই সমাজে তাদের একটা আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। পরবর্তীতে সেই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণে যা শিখেছেন, উপলব্ধি করেছেন, তা বাকিদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন তারা।

খারি নডেয়ে নামের ৫২ বছর বয়সী এক নারী জানান, তার স্বামী আগে কোনো কাজেই হাত লাগাতো না, কিন্তু এখন তিনি রান্নাও করেন।