বর্তমান সময়ে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়া অনেকের কাছেই যেন স্বপ্নের মতো। শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত—সব শ্রেণির মানুষ জীবিকার তাগিদে সুযোগের খোঁজে ছুটে চলছেন। তবে বছরের পর বছর চেষ্টা করেও অনেকে সফল হতে না পেরে হতাশায় ভুগছেন।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বাস করা হয়, রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহতায়ালা। তাই চাকরির জন্য প্রচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি তাঁর কাছে দোয়া করা ও সাহায্য চাওয়াই উত্তম। আলেমদের মতে, দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ উত্তম সময়ে জীবিকার দ্বার উন্মুক্ত করে দেন।
বিশ্বস্ত ইসলামি সূত্রে জানা যায়, কোরআনুল কারিমে এমন একটি দোয়া রয়েছে যা নবী মুসা (আ.) করেছিলেন কষ্টের সময়ে। দোয়াটি হলো—
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির।
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ পাঠাবে, আমি তারই মুখাপেক্ষী। (সুরা আল-কাসাস: ২৪)
আরও পড়ুন : কোন বয়স থেকে নামাজ শুরু করা উচিত?
ইসলামি ব্যাখ্যানুসারে, এ আয়াত নবী মুসা (আ.)-এর জীবনের এক সংকটময় সময়ের ঘটনা। মিসর ছেড়ে মাদায়িনে এসে তিনি জীবিকা ও আশ্রয়হীন অবস্থায় ছিলেন। কূপের ধারে দুই নারীর পশুদের পানি খাওয়ানোর পর তিনি ছায়ায় বসে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। এর ফলেই তিনি আশ্রয়, কাজ ও নতুন জীবনের সুযোগ লাভ করেন।
আলেমরা পরামর্শ দেন, চাকরিপ্রত্যাশীদের উচিত এ দোয়া আন্তরিকতার সঙ্গে পড়া এবং আল্লাহর গুণবাচক নাম—يَا وَهَّابُ (ইয়া ওয়াহহাবু অর্থ: বিনামূল্যে অধিক দানকারী)—বেশি বেশি পাঠ করা। একই সঙ্গে দরুদ শরিফ পাঠ ও সৎকর্মে অংশগ্রহণ রিজিকে বরকতের কারণ হতে পারে।
ধর্মবিশারদদের মতে, যারা এসব আমল ও দোয়া নিয়মিত পালন করবেন, আল্লাহ তাদের রিজিকের ব্যবস্থা সহজ করে দেবেন এবং অভাব-অনটনের সমাধান ঘটাবেন।
ঢাকা ডেস্ক 









