১১:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মসজিদ বন্ধ করে নাচের স্কুল বানানোর আহ্বান তসলিমা নাসরিনের 

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • 141

ইসলামের অন্যতম পবিত্র জায়গা আল্লাহর ঘর মসজিদ নিয়ে আবারও বিষবাষ্প ছড়ালেন ভারতে নির্বাসিত লেখিতা তসলিমা নাসরিন। শনিবার (৯ আগস্ট) রাত ৯টা ১৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি মসজিদ ও মুসল্লিদের নিয়ে ভীষণ অমর্যাদাকর ভাষায় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘মসজিদের আসল কাজ নামাজ নয়, আসল কাজ সন্ত্রাস। আসল কাজ নামাজীদের জঙ্গী দীক্ষায় দীক্ষিত করা, জঙ্গীদের হাতে অস্ত্র দেওয়া, মুক্তচিন্তকদের হত্যা করা।’

স্ট্যাটাসে তিনি তিনটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবি দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন মুসল্লি ও স্থানীয় জনতার সঙ্গে সেনাবাহিনী রয়েছে। তাদের সামনে রয়েছে প্রচুর অস্ত্র।

তসলিমা নাসরিন এই ছবিকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন, ‘গত বছরের জুলাই আগস্ট মাসে থানার পুলিশদের জবাই করে জঙ্গীরা থানা লুট করে অস্ত্র এনে মসজিদে রেখেছে। এসব উদ্ধার হলো এক বছর পর। এক বছরে বাড়ি বাড়ি এত যে  চুরি ডাকাতি ছিনতাই হলো, ওসবে তো এসব অস্ত্রই সম্ভবত ব্যবহার হয়েছে।’

আরও পড়ুন : মিথ্যা বলেছিলেন সেই আনিসা, নেওয়া হচ্ছে না তার পরীক্ষা

এ সময় মসজিদ বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। মসজিদের বিল্ডিংগুলোকে বিজ্ঞান ক্লাব, পাঠাগার, প্রেক্ষাগৃহ, নারী-অধিকার সংস্থা, গানের স্কুল, নাচের স্কুল, নাটকের স্কুল, মুক্তচিন্তা বিকাশ কেন্দ্র, মিউজিয়াম ইত্যাদি বানানো হোক। সমাজের মঙ্গল হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমন করতে শেখ হাসিনার সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের লেলিয়ে দেয়। জাতিসংঘের হিসেবে ওই ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়।

কিন্তু তবুও বিক্ষোভ দমন করতে না পেরে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। হাসিনা পালানোর খবর শুনে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থানায় অস্ত্র ফেলে, পোশাক বদলে সাধারণ জনতার ভীড়ে মিশে যায় পুলিশ সদস্যরা।

ছবিগুলো ফেসবুকে তসলিমা নাসরিনের শেয়ার করা তিনটি ছবিই ঢাকার খিলগাঁও এলাকার। ছবিগুলো ২০২৪ এর ৭ আগস্টের। খিলগাঁও থানার পুলিশ অস্ত্র ফেলে পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা সেসব অস্ত্র সংগ্রহ করে মসজিদে রাখেন। পরে ৭ আগস্ট (সরকার গঠনের আগেই) সেনা বাহিনীকে ডেকে সেই অস্ত্র জমা সেনা বাহিনীর জিম্মায় দেন স্থানীয়রাই। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তসলিমা নাসরিন পুরোনো ছবি পোস্ট করে গুজব ছড়াচ্ছেন।

উল্লেখ্য, তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশি-সুইডিশ লেখক। ইসলাম ধর্ম নিয়ে নানা বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে বসবাস করে বর্তমানে কলকাতায় আছে। তিনি প্রায়ই বাংলাদেশ ও ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করে লেখালেখি করেন, সভা-সেমিনারে বক্তব্য দেন ও স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। এসব স্ট্যাটাসের বেশিরভাগই গুজবনির্ভর।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মসজিদ বন্ধ করে নাচের স্কুল বানানোর আহ্বান তসলিমা নাসরিনের 

সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

ইসলামের অন্যতম পবিত্র জায়গা আল্লাহর ঘর মসজিদ নিয়ে আবারও বিষবাষ্প ছড়ালেন ভারতে নির্বাসিত লেখিতা তসলিমা নাসরিন। শনিবার (৯ আগস্ট) রাত ৯টা ১৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি মসজিদ ও মুসল্লিদের নিয়ে ভীষণ অমর্যাদাকর ভাষায় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘মসজিদের আসল কাজ নামাজ নয়, আসল কাজ সন্ত্রাস। আসল কাজ নামাজীদের জঙ্গী দীক্ষায় দীক্ষিত করা, জঙ্গীদের হাতে অস্ত্র দেওয়া, মুক্তচিন্তকদের হত্যা করা।’

স্ট্যাটাসে তিনি তিনটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবি দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন মুসল্লি ও স্থানীয় জনতার সঙ্গে সেনাবাহিনী রয়েছে। তাদের সামনে রয়েছে প্রচুর অস্ত্র।

তসলিমা নাসরিন এই ছবিকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন, ‘গত বছরের জুলাই আগস্ট মাসে থানার পুলিশদের জবাই করে জঙ্গীরা থানা লুট করে অস্ত্র এনে মসজিদে রেখেছে। এসব উদ্ধার হলো এক বছর পর। এক বছরে বাড়ি বাড়ি এত যে  চুরি ডাকাতি ছিনতাই হলো, ওসবে তো এসব অস্ত্রই সম্ভবত ব্যবহার হয়েছে।’

আরও পড়ুন : মিথ্যা বলেছিলেন সেই আনিসা, নেওয়া হচ্ছে না তার পরীক্ষা

এ সময় মসজিদ বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদগুলো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। মসজিদের বিল্ডিংগুলোকে বিজ্ঞান ক্লাব, পাঠাগার, প্রেক্ষাগৃহ, নারী-অধিকার সংস্থা, গানের স্কুল, নাচের স্কুল, নাটকের স্কুল, মুক্তচিন্তা বিকাশ কেন্দ্র, মিউজিয়াম ইত্যাদি বানানো হোক। সমাজের মঙ্গল হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমন করতে শেখ হাসিনার সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের লেলিয়ে দেয়। জাতিসংঘের হিসেবে ওই ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়।

কিন্তু তবুও বিক্ষোভ দমন করতে না পেরে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। হাসিনা পালানোর খবর শুনে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থানায় অস্ত্র ফেলে, পোশাক বদলে সাধারণ জনতার ভীড়ে মিশে যায় পুলিশ সদস্যরা।

ছবিগুলো ফেসবুকে তসলিমা নাসরিনের শেয়ার করা তিনটি ছবিই ঢাকার খিলগাঁও এলাকার। ছবিগুলো ২০২৪ এর ৭ আগস্টের। খিলগাঁও থানার পুলিশ অস্ত্র ফেলে পালিয়ে গেলে স্থানীয়রা সেসব অস্ত্র সংগ্রহ করে মসজিদে রাখেন। পরে ৭ আগস্ট (সরকার গঠনের আগেই) সেনা বাহিনীকে ডেকে সেই অস্ত্র জমা সেনা বাহিনীর জিম্মায় দেন স্থানীয়রাই। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তসলিমা নাসরিন পুরোনো ছবি পোস্ট করে গুজব ছড়াচ্ছেন।

উল্লেখ্য, তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশি-সুইডিশ লেখক। ইসলাম ধর্ম নিয়ে নানা বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে বসবাস করে বর্তমানে কলকাতায় আছে। তিনি প্রায়ই বাংলাদেশ ও ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করে লেখালেখি করেন, সভা-সেমিনারে বক্তব্য দেন ও স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। এসব স্ট্যাটাসের বেশিরভাগই গুজবনির্ভর।