০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের তালিকাভুক্ত কিন্তু রাজধানীতে অবাধ বিচরণ ৯৭২ ছিনতাইকারীর

  • ঢাকা ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • 71

ছিনতাইয়ের প্রতীকি ছবি

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে এমন এক বাস্তবতা, যা নগরবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর প্রায় সব জায়গাতেই সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারীদের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। সড়কে চলমান পথচারী বা যানবাহন থামানোর সুযোগ নিয়ে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভয়াবহতার মাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে, অনেকের মৃত্যুও হয়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনায়।

অবাক করার বিষয় হলো, পুলিশের কাছে ইতিমধ্যে রাজধানীতে সক্রিয় ৯৭২ ছিনতাইকারীর নামসহ বিস্তারিত তথ্য আছে। তাদের অধিকাংশই পুলিশের তালিকাভুক্ত। পুলিশের বিশেষায়িত একটি ইউনিটের তৈরি তালিকায় বিভিন্ন এলাকার ছিনতাইকারীদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এত সত্ত্বেও তারা অবাধে বিচরণ করছে, যা পুলিশি তৎপরতার সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরে।

একজন দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে সুমন বাবুর্চির ঘটনা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধানমন্ডি ও দারুসসালাম এলাকায় নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছেন তিনি। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে একাধিকবার গ্রেফতার ও জামিন নিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়েছেন। দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিব-উল-হোসেন জানান, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনার অভিযোগে গ্রেফতার করেই চালান দিই, সাক্ষ্যপ্রমাণ পেলে চার্জশিটও দাখিল করি। কিন্তু অনেকেই জামিনে মুক্তি নিয়ে আবার অপরাধে লিপ্ত হয়।’

মতিঝিল, ওয়ারী, মিরপুর, গুলশান, উত্তরা, লালবাগ, রমনা এবং তেজগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছিনতাইকারীদের কার্যক্রম চলছে। তেজগাঁও ও মিরপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি—৩৮০ জন ছিনতাইকারী সক্রিয়, যার মধ্যে ২২৩ জন তেজগাঁওয়ে অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন : সমন্বয়ক পরিচয়ে ছিনতাই ও চাঁদা দাবি, পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ‘আমরা নিয়মিত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করছি, কিন্তু জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধ করছে অনেকেই।’

অপরদিকে, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ সামছুদ্দোহা সুমন বলেন পুলিশের অপরিপক্ক মামলার কারণে অনেক ছিনতাইকারী জামিনে বেরিয়ে যায়। এখন সিএমএম কোর্ট জামিন কম দেয় তবে পুরাতন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কারণে প্রমাণের ঘাটতির সৃষ্টি হয়।

মোহাম্মদপুরকে বর্তমানে ছিনতাইয়ের হাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে নতুন-পুরনো মিলিয়ে অনেক ছিনতাইকারী সক্রিয়। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২২ সালের পরেও শতাধিক নতুন ছিনতাইকারী এ এলাকায় আস্তানা গড়েছে।

ছিনতাইয়ে যুক্ত নতুনদের মধ্যে অনেকেই সাভার ও গাজীপুর থেকে ঢাকায় এসে অপরাধ চালিয়ে দ্রুত ফিরে যাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এসব এলাকার নাম-পরিচিত ছিনতাইকারীদের অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, ‘আমাদের তালিকা ছাড়াও স্থানীয় সোর্স ও গোপন তথ্যের মাধ্যমে নতুন ছিনতাইকারীদের খোঁজ পাওয়া এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

রাজধানীর ছিনতাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আদালত কার্যক্রম চলমান থাকলেও পুনরাবৃত্তি অপরাধ ও মামলার জটিলতা পরিস্থিতি কঠিন করে তুলছে।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সেভ করুন

সর্বাধিক পঠিত

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

পুলিশের তালিকাভুক্ত কিন্তু রাজধানীতে অবাধ বিচরণ ৯৭২ ছিনতাইকারীর

সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে এমন এক বাস্তবতা, যা নগরবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর প্রায় সব জায়গাতেই সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারীদের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। সড়কে চলমান পথচারী বা যানবাহন থামানোর সুযোগ নিয়ে ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভয়াবহতার মাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে, অনেকের মৃত্যুও হয়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনায়।

অবাক করার বিষয় হলো, পুলিশের কাছে ইতিমধ্যে রাজধানীতে সক্রিয় ৯৭২ ছিনতাইকারীর নামসহ বিস্তারিত তথ্য আছে। তাদের অধিকাংশই পুলিশের তালিকাভুক্ত। পুলিশের বিশেষায়িত একটি ইউনিটের তৈরি তালিকায় বিভিন্ন এলাকার ছিনতাইকারীদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এত সত্ত্বেও তারা অবাধে বিচরণ করছে, যা পুলিশি তৎপরতার সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরে।

একজন দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে সুমন বাবুর্চির ঘটনা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধানমন্ডি ও দারুসসালাম এলাকায় নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছেন তিনি। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে একাধিকবার গ্রেফতার ও জামিন নিয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়েছেন। দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিব-উল-হোসেন জানান, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনার অভিযোগে গ্রেফতার করেই চালান দিই, সাক্ষ্যপ্রমাণ পেলে চার্জশিটও দাখিল করি। কিন্তু অনেকেই জামিনে মুক্তি নিয়ে আবার অপরাধে লিপ্ত হয়।’

মতিঝিল, ওয়ারী, মিরপুর, গুলশান, উত্তরা, লালবাগ, রমনা এবং তেজগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছিনতাইকারীদের কার্যক্রম চলছে। তেজগাঁও ও মিরপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি—৩৮০ জন ছিনতাইকারী সক্রিয়, যার মধ্যে ২২৩ জন তেজগাঁওয়ে অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন : সমন্বয়ক পরিচয়ে ছিনতাই ও চাঁদা দাবি, পিটুনি দিয়ে পুলিশে দিল জনতা

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ‘আমরা নিয়মিত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করছি, কিন্তু জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধ করছে অনেকেই।’

অপরদিকে, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ সামছুদ্দোহা সুমন বলেন পুলিশের অপরিপক্ক মামলার কারণে অনেক ছিনতাইকারী জামিনে বেরিয়ে যায়। এখন সিএমএম কোর্ট জামিন কম দেয় তবে পুরাতন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কারণে প্রমাণের ঘাটতির সৃষ্টি হয়।

মোহাম্মদপুরকে বর্তমানে ছিনতাইয়ের হাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে নতুন-পুরনো মিলিয়ে অনেক ছিনতাইকারী সক্রিয়। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২২ সালের পরেও শতাধিক নতুন ছিনতাইকারী এ এলাকায় আস্তানা গড়েছে।

ছিনতাইয়ে যুক্ত নতুনদের মধ্যে অনেকেই সাভার ও গাজীপুর থেকে ঢাকায় এসে অপরাধ চালিয়ে দ্রুত ফিরে যাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এসব এলাকার নাম-পরিচিত ছিনতাইকারীদের অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, ‘আমাদের তালিকা ছাড়াও স্থানীয় সোর্স ও গোপন তথ্যের মাধ্যমে নতুন ছিনতাইকারীদের খোঁজ পাওয়া এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

রাজধানীর ছিনতাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আদালত কার্যক্রম চলমান থাকলেও পুনরাবৃত্তি অপরাধ ও মামলার জটিলতা পরিস্থিতি কঠিন করে তুলছে।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর