মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই বাংলাদেশের কূটনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করলেন তরুণ শিক্ষাবিদ ড. মো. নাজমুল ইসলাম। মালদ্বীপে বাংলাদেশের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে তার নিয়োগ দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাইয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়— অন্যান্য সব পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্তে ড. নাজমুলকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ৩ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আবুল হাসান মৃধার স্বাক্ষরে জারি করা অফিস আদেশে মালেতে হাই কমিশনার হিসেবে তার দায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়।
আরও পড়ুন : বাংলাদেশিদের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা দেবে চীন
নোয়াখালী জেলার সন্তান ড. নাজমুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তুরস্ক সরকারের বৃত্তিতে আঙ্কারা ইলদিরিম বেয়াজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি শেষ করে সেখানেই সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তার অবদান অনন্য। তুরস্কের পার্লামেন্টের ফরেন রিলেশন্স অ্যান্ড প্রটোকল ডিপার্টমেন্টে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি শতবর্ষের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি হিসেবে এ সম্মান অর্জন করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটে গেস্ট লেকচারার হিসেবে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পাঠদান করছেন।
ড. নাজমুল জাতিসংঘ, ওআইসি ও ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। রোহিঙ্গা সংকটসহ সংখ্যালঘু ইস্যুতে তার একাডেমিক গবেষণা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
কূটনীতিতে এত অল্প বয়সে শীর্ষ পদে আসীন হওয়ায় অনেকেই তাকে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ‘গ্লোবাল ভয়েস’ হিসেবে দেখছেন।
ঢাকা ডেস্ক 









