ইসরায়েল এবার গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলের পরিকল্পনায় আনুষ্ঠানিকভাবে সায় দিয়েছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে গাজা দখলের পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে বলে এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) যে পরিকল্পনা পেশ করেছিল, তা পাস করেছে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘হামাসকে পরাজিত করার রূপরেখা’কে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থাকা বেসামরিক জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ইসরায়েল। একইসঙ্গে হামাসের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির জন্য যেসব শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে পাঁচটি মূলনীতিকে সমর্থন জানিয়েছেন মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্য।
আরও পড়ুন : গাজায় ত্রাণের ট্রাক উল্টে নিহত অন্তত ২৫
এই পাঁচটি মূলনীতি হলো—
- হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ
- এখনও জিম্মি থাকা ৫০ জনকে মুক্ত করা, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত
- গাজা উপত্যকার সামগ্রিক নিরস্ত্রীকরণ
- গাজায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
- হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নয়—এমন বিকল্প বেসামরিক নেতৃত্বের হাতে গাজার প্রশাসন হস্তান্তর
এর আগের দিন, ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা গাজাকে দীর্ঘমেয়াদে দখলে রাখতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য শুধু সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান সম্পন্ন করে একটি বিশ্বাসযোগ্য বেসামরিক প্রশাসনের হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই গাজা পরিচালনার দায়িত্ব এমন আরব নেতৃত্বের হাতে যাক, যারা আমাদের ধ্বংসে আগ্রহী নয় এবং অঞ্চলটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম।’
তবে নেতানিয়াহুর এই পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তার ভাষায়, ‘এই ধরনের প্রস্তাবের মানে আরও দীর্ঘ যুদ্ধ, অধিক সংখ্যক জিম্মির মৃত্যুর ঝুঁকি এবং বিপুল অর্থ অপচয়।’
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। বিশেষ করে গাজার প্রশাসন কাকে দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক মহলও এ ধরনের সিদ্ধান্তের মানবিক ও কূটনৈতিক পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ঢাকা ডেস্ক 









