ঢাকায় ঘটে যাওয়া আলোচিত জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ছয় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মরদেহ অবশেষে এক বছর পর দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চললেও কোনোভাবেই পরিচয় মেলেনি। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে মরদেহগুলো হস্তান্তর করে দাফনের ব্যবস্থা করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করে সংস্থাটি। দুপুরে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে ইসলামি বিধান মেনে লাশগুলো দাফন সম্পন্ন হয়।
শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মরদেহগুলো আজ সকালে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা যথাযথভাবে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।’
আরও পড়ুন : জুলাই আনন্দ র্যালিতে গিয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু
তিনি আরও জানান, ‘এই মরদেহগুলো গত বছরের ৫ আগস্টের আগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর মর্গে দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত ছিল। অনেকেই শনাক্তের জন্য এসেছিলেন, এমনকি ডিএনএ নমুনা পরীক্ষাও করা হয়। কিন্তু কারও সঙ্গেই মিল পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।’
আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের দাফন কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল আহমেদ বলেন, ‘আজ সকালে ছয়টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। দুপুর ২টার দিকে আমরা জুরাইন কবরস্থানে ইসলামি রীতি অনুযায়ী তাদের দাফন সম্পন্ন করি।’
শাহবাগ থানার তথ্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, মরদেহগুলোর অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ ছিল আঘাতজনিত। ধারণা করা হচ্ছে, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘর্ষ বা দমন-পীড়নের সময় তাদের মৃত্যু হয়।
এক বছর পরও এসব মৃত্যুর প্রকৃত পরিচয় ও প্রেক্ষাপট অজানাই রয়ে গেছে। তবে নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে শেষ বিদায় নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা ডেস্ক 









