জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কক্সবাজার সফর নিয়ে দলের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে বলেছেন, ‘ঘুরতে যাওয়া কোনো অপরাধ নয়। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দায়িত্বশীল মানসিক চর্চা করতেই সাগরের পাড়ে গিয়েছিলাম।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্টেটমেন্ট পোস্ট করে তিনি নোটিশের লিখিত জবাব প্রকাশ করেন। এতে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, ৫ আগস্ট তার কোনো নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় বা দলীয় কর্মসূচি ছিল না এবং তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ও মানসিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘুরতে গিয়েছিলেন।
নাসীরুদ্দীন লিখেছেন, ‘সাগরের পাড়ে বসে আমি গভীরভাবে ভাবতে চেয়েছি গণ–অভ্যুত্থান, নাগরিক কমিটি, নাগরিক পার্টির কাঠামো, ভবিষ্যৎ গণপরিষদ এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে। আমি এটিকে কোনো অপরাধ মনে করি না, বরং এটি একজন রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্বশীল মানসিক চর্চা।’
আরও পড়ুন : হাসনাত-সারজিসসহ কক্সবাজার যাওয়া এনসিপির ৫ নেতাকে শোকজ
তিনি জানান, সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম এবং তাসনিম জারা-খালেদ সাইফুল্লাহ দম্পতি। সফরের আগে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনে কক্সবাজারে সফর নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের জবাবে নাসীরুদ্দীন লেখেন, ‘গুজব ছড়ানো হয় যে আমরা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। হোটেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, সেখানে পিটার হাস ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে তিনি তখন ওয়াশিংটনে অবস্থান করছিলেন।’
উল্লেখ্য, গতকাল এনসিপির পক্ষ থেকে নাসীরুদ্দীনসহ পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীতে কক্সবাজার সফরের কারণ ও প্রেক্ষাপট জানতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।
এই ঘটনার সূত্র ধরে এনসিপির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও শৃঙ্খলাবোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা ডেস্ক 









