একসময় বলা হতো, বেশি ডিম খেলেই নাকি হৃদরোগ বাড়ে! অনেকেই ভয় পেয়ে সকালবেলা প্রিয় ডিমটা বাদ দিয়েছেন। কিন্তু বিজ্ঞান কি এখনো সেটাই বলছে?
হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণা বলছে—বিষয়টি এতটা ভয় পাওয়ার মতো নয়।
ডিম মানেই কোলেস্টেরল?
একটা বড় ডিমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম। কিন্তু এটাও সত্যি যে ডিমে আছে—
- প্রোটিন
- ভিটামিন এ, ডি ও বি১২
- আয়রন, সেলেনিয়াম
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
অর্থাৎ, ডিম কেবল কোলেস্টেরলের উৎস নয়, বরং একসাথে অনেক পুষ্টির আধারও।
তাহলে হৃদরোগের ভয় কতটা বাস্তব?
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রতিদিন ১ থেকে ২টি ডিম খাওয়া বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য নিরাপদ। এমনকি এটি ‘ভালো কোলেস্টেরল’ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন : যেসব পানীয় ভালো রাখবে আপনার লিভার
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ডিম খায়, তাদের মধ্যে অনেকের কোলেস্টেরল অনুপাতও স্বাভাবিক থাকে — যা হৃদরোগ ঝুঁকি মাপার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিচের গোষ্ঠীগুলোর একটু বেশি সচেতন হওয়া উচিত-যাদের আগে থেকেই কোলেস্টেরল বেশি,ডায়াবেটিস রয়েছে,হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে এছাড়াও অতিরিক্ত ওজন বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে
এমন পরিস্থিতিতে সপ্তাহে ৪–৫টি ডিম, অথবা শুধু ডিমের সাদা অংশ খাওয়াই ভালো।
ডিমের কুসুম না কি শুধু সাদা অংশ খাবেন?
ডিমের সাদা অংশে কোলেস্টেরল নেই, তবে কুসুমেই রয়েছে—
- ভিটামিন ডি
- আয়রন
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
- চোলিন (মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ)
তাই অকারণে কুসুম বাদ না দেওয়াই ভালো, যদি না আপনার ডাক্তার নিষেধ করে থাকেন।
শেষ কথা
🔹 সুস্থ ব্যক্তির জন্য: প্রতিদিন ১–২টি ডিম খাওয়া নিরাপদ
🔹 ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির জন্য: সপ্তাহে ৪–৫টি ডিম, অথবা ডিমের সাদা অংশ
🔹 সবার জন্য পরামর্শ: একক কোনো খাবার নয়, পুরো ডায়েটটাই বিবেচনায় নিতে হবে
অতএব, ডিমকে দোষ না দিয়ে একটু জেনে-বুঝে খাওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ডিমের কুসুমে যতই কোলেস্টেরল থাকুক—সঠিক পরিমাণে খেলে তা বরং উপকারই করে।
ঢাকা ডেস্ক 















