বছর ঘুরলেই মানুষের জীবন থেকে কমে যায় নির্ধারিত আয়ু থেকে এক একটি বছর। জীবন থেকে সময় কমলেও এ নিয়ে উৎসব আয়োজনে কমতি রাখেন না অনেকে। ইসলামের দৃষ্টিতে আসলে এমন দিবস পালন করা যাবে কিনা তা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রখ্যাত আলেম শায়খ আহমদুল্লাহ।
তিনি বলেন, হ্যাপি বার্থডে বা এমন বার্তা দিয়ে জন্মেদিনের শুভেচ্ছা জানানো প্রকৃতিপূজারি ও নানা অপসংস্কৃতির সাথে জড়িত বিশ্বাসের মানুষ আছে তাদের অন্ধ অনুকরণ। একজন মুসলিম এসব বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করবেন। এগুলো নিঃসন্দেহে গুনাহের কাজ। এছাড়া জন্মদিনে মোমবাতি জালানো বা কেক কাটা এগুলোর পেছনের কিছু গল্প আছে। যা ধর্মবিশ্বাসের সাথে জড়িত। সেগুলো জানলে এগুলো আমরা করতাম না।
জন্মদিন পালনের সংস্কৃতি কিভাবে এলো
জন্মদিন পালনের মূল উৎসব হলো পশ্চিমা সংস্কৃতি। আর এর সূচনা হয়েছিল ফিরাউন থেকে। বাইবেলের বুক অব অব জেনেসিসে এসেছে, ‘তৃতীয় দিনটা ছিল ফিরাউনের জন্মদিন। ফিরাউন তার সব দাসদের জন্য ভোজের আয়োজন করলেন। সেই সময় ফিরাউন রুটিওয়ালা ও খাদ্যদ্রব্য পরিবেশককে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেন।’ (আদি পুস্তক : ৪০২)
বাইবেলের এমন বর্ণণার পর স্পষ্টত বুঝা যায় যে জন্মদিন পালন ইসলামী কোনো উৎসব নয়। ইসলামে এসব কর্মকাণ্ডের কোনো ভিত্তি নেই।
আরও পড়ুন : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বৃদ্ধির দোয়া
জন্মদিন পালন ইসলামে বৈধ থাকলে সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে এর প্রচলন দেখা যেতো। তবে তাদের মধ্যে এসব পালনের কোনো নজির নেই। এমনকি তাদের মধ্যে জন্মদিনের তারিখের বিষয়েও অনেকে স্পষ্ট নন। এছাড়া আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) রবিউল আওয়াল মাসের কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন এটা নিয়েও রয়েছে মতভেদ।
জন্মদিন উপলক্ষে ফেসবুকে কাউকেশুভেচ্ছা জানানো, আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধব জমায়েত হয়ে উৎসব করা, অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, বিশেষ দোয়া, সালাম বা উপহার পেশ করা, বয়স অনুপাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে তা ফুঁ দিয়ে নেভানো, কেক কেটে খাওয়া প্রভৃতি কাজ হলো অপচয়। এগুলো কোনো ধার্মিক ব্যক্তির আচরণ হতে পারে না।
যা বলেন প্রিয় নবী
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির অনুসরণ করবে বিঘত-বিঘত এবং হাত-হাতের সমপরিমাণ। এমনকি তারা যদি সাপের গর্তে প্রবেশ করে, তা হলে তোমরাও তাদের পেছন পেছন যাবে।’ সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ইহুদি ও নাসারাদের অনুকরণ করার কথা বলছেন?’ নবী করিম (সা.) বললেন, ‘তবে আর কার?’ (বুখারি : ২৬৬৯)
আরও পড়ুন : মদের বোতলে পানি পান করা কি বৈধ? ইসলামী দৃষ্টিকোণে ব্যাখ্যা
অন্য একটি হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদের দলভুক্ত হবে।’ (সহিহুল জামে : ৬০২৫)
অপর এক হাদিসে নবী করিম (সা.) আরও বলেন, ‘সে ব্যক্তি আমার দলভুক্ত নয়, যে আমাদের ছেড়ে অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে। তোমরা ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন কর না, খ্রিস্টানদেরও সাদৃশ্য অবলম্বন কর না।’ (সিলসিলাহ সহিহা : ২১৯৪)
ঢাকা ডেস্ক 















